
বিশ্বকাপে উঠতে না পারার হতাশা কাটার আগেই ইতালির ফুটবলে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্লে-অফের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের পর দেশটির ফুটবল প্রশাসনে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার রাতে বসনিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারায় ইতালি। এর পর বৃহস্পতিবার রোমে ফুটবল সংস্থার জরুরি বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে সংস্থার সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা নিজের পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। ৭২ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্বে ছিলেন।
গ্রাভিনার পদত্যাগের কিছু সময় পরই নিজের সরে দাঁড়ানোর কথা জানান ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বুফন বলেন, দলের মূল লক্ষ্য ছিল ইতালিকে আবার বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনা, কিন্তু তারা তা করতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর নিয়েই তিনি দায়িত্ব ছেড়েছেন, যাতে নতুনরা নিজেদের মতো করে দল গঠন করতে পারে।
ইতালির জন্য সমস্যার এখানেই শেষ নয়। দেশের মাঠ ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতি আলেকসান্ডার সেফেরিন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অবকাঠামোর উন্নতি না হলে ২০৩২ সালের ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ হারাতে পারে ইতালি। তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে এই আসর আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও ইতালির অনেক স্টেডিয়ামের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
গত কয়েক বছরে ইতালির জন্য সময়টা কঠিন যাচ্ছে। ২০১৮ সালে সুইডেন এবং ২০২২ সালে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপে যেতে পারেনি দলটি। এবার বসনিয়ার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের বাইরে থাকছে তারা, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে প্রথম।
২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্রাভিনার সময়েই ইতালি ২০২১ সালে ইউরোপের শিরোপা জিতেছিল। তবে বিশ্বকাপে না ওঠার ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত তাঁকেই নিতে হলো। এখন নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইতালি কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩এপ্রিল২৬/টিএ






















