Connect with us
ফুটবল

৪০ বছরের অপেক্ষার ইতি ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ইরাক

Iraq
বিশ্বকাপে ইরাক। ছবি: সংগৃহীত

চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে ইরাক। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে পশ্চিম এশিয়ার দেশটি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের তালিকাও পূর্ণ হলো।

এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করেছিল ইরাক। তবু আশা ছাড়েনি দলটি। প্লে-অফে জায়গা পাওয়ার পর থেকেই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তারা। সেই স্বপ্ন ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস। রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছে, হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। তবে কোচ গ্রাহাম আরনল্ড শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের সতর্ক রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, উদযাপন ভালো, কিন্তু মূল লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। শেষ পর্যন্ত তার সেই কথারই প্রতিফলন দেখা গেল মাঠে।

ফাইনাল ম্যাচটি ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ১৮ মিনিটে আলি আলমাহাদির গোলে এগিয়ে যায় ইরাক। গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বলিভিয়া। তাদের সেই চেষ্টা সফল হয় ৩৮ মিনিটে, যখন মইসেস পানিয়াগুয়া সমতা ফেরান।



প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচে ছিল সমান উত্তেজনা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও সংগঠিত হয়ে মাঠে নামে ইরাক। আক্রমণে গতি বাড়ায় তারা। এর ফলও পায় দ্রুত। ৫৩ মিনিটে আইমেন হুসেইন গোল করে আবারও এগিয়ে দেন দলকে। এরপর বাকি সময়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বলিভিয়া। একের পর এক আক্রমণ করলেও ইরাকের রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইরাক।

এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল ইরাক। দীর্ঘ সময় পর এমন সাফল্যে দেশটির ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ নেমে এসেছে।

একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও এটি বিশেষ একটি সাফল্য কোচ গ্রাহাম আরনল্ডের জন্য। তিনি প্রথম অস্ট্রেলীয় কোচ হিসেবে নিজের দেশের বাইরে অন্য একটি দলকে বিশ্বকাপে তোলার কৃতিত্ব দেখালেন। তার অধীনে দলটির ধারাবাহিক উন্নতি এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এই আসর। ইরাক খেলবে ‘আই’ গ্রুপে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগাল।

১৬ জুন নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরাক। এরপর ২২ জুন তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে মাঠে নামবে। কঠিন গ্রুপে পড়লেও আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামতে চায় ইরাক, কারণ দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া এই সুযোগ তারা কাজে লাগাতে চায়।

ক্রিফোস্পোর্টস/১এপ্রিল২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল