
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে আপত্তি জানিয়েছে দেশটি। তবে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিফা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিষ্কারভাবে বলেছেন, বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। তার মতে, অনেক আগেই যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে, সেটি মেনেই সব ম্যাচ আয়োজন করা হবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার কারণে ইরান সরকার এবং তাদের ফুটবল সংস্থা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা তাদের জন্য সম্ভব নয়। তারা চেয়েছিল, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে নির্ধারিত তিনটি গ্রুপপর্বের ম্যাচ মেক্সিকো-তে সরিয়ে নেওয়া হোক। তবে ফিফা সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
ফিফা সভাপতি বলেন, ফুটবল সংস্থা হিসেবে তাদের কাজ খেলাধুলা আয়োজন করা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মেটানো নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে একই বৈঠকে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার একটি অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। তাদের দাবি ছিল, ইসরায়েল পশ্চিম তীরের বসতিতে থাকা দলগুলোকে তাদের ঘরোয়া লিগে খেলাচ্ছে, যা নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়নি ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের অবস্থান একটি জটিল আন্তর্জাতিক বিষয়, তাই এতে সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এরই মধ্যে ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তারা কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলবে না। তবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই তাদের। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইরান দল।
ফিফার এই অবস্থানের পর এখন সব নজর ইরানের দিকে। তারা কি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে, নাকি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি মেনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী কিছুদিন।
ক্রিফোস্পোর্টস/২০মার্চ২৬/টিএ
























