ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করে সমর্থন আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ফিফার সাবেক সহ-সভাপতি এবং জর্ডান ফুটবল সংস্থার সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিলে জর্ডান ফুটবলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সুবিধা হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল।
প্রিন্স আলী বলেন, তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তাঁর মতে, এটি ছিল এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা। জর্ডানে নৈতিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে যেমন ইনফান্তিনোকে সমর্থন করেননি, এখনও করবেন না। কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করারও প্রশ্নই ওঠে না।
জর্ডান ফুটবল সংস্থার প্রধান আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত আরব কাপে রানার্সআপ হওয়ার পরও তাদের প্রাপ্য অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ওই প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ দল হিসেবে জর্ডানের প্রায় ৪২ লাখ ডলার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও সেই অর্থ হাতে আসেনি বলে দাবি তাঁর।
এ নিয়ে তিনি ফিফার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়া সংস্থা হওয়ার পরও একটি সদস্য দেশের প্রাপ্য অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, এটি অর্থের সংকট নয়, নেতৃত্বের সমস্যার পরিচয়। পাশাপাশি গত কয়েক মাসে বিভিন্ন বিষয়েও ফিফা জর্ডানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রিন্স আলীর দাবি, ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেই তাঁকে জানানো হয়েছিল, যদি তিনি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানান, তাহলে জর্ডান ফুটবল সংস্থার জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ফিফাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এর আগে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে ফিফার একটি পরিকল্পনা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ও জাতীয় ফুটবল সংস্থার বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা। এরপর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হতে থাকে।
আগামী বছরের মার্চে ফিফা সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একসময় ইনফান্তিনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইতোমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল নির্ধারণে এশিয়ার সদস্য দেশগুলোর ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৫আগস্ট২৬/টিএ



