
প্রায় ১১ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। এরপর একের পর এক শিরোপা জিতেই চলছে টিম ইন্ডিয়া। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার এক বছর পর এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুললো দলটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়ল ম্যান ইন ব্লুসরা।
রোববার (৮ মার্চ) ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল ভারত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানের বিশাল পুঁজি পায় ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি কিউইরা।
হাইভোল্টেজ এই ফাইনালে রানতাড়ায় নেমে ঝোড়ো শুরুর আভাস দেয় নিউজিল্যান্ড। তবে উদ্বোধনী জুটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই ভেঙে দেন অক্ষর প্যাটেল। তৃতীয় ওভারেই ফেরান ফিন অ্যালেনকে। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো এই ব্যাটার ৭ বলে ৯ রান করে ফিরে যান। তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রাচিন রবীন্দ্র। জাসপ্রীত বুমরাহর বলে ক্যাচ দিয়ে ১ রান করে ফেরেন এই তারকা।
মারকুটে ব্যাটার গ্লেন ফিলিপসও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ৫ বলে মাত্র ৫ রান করে অক্ষরের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। মিডলে মার্ক চ্যাপম্যানও হতাশ করেন। ৮ বলে মাত্র ৩ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই ব্যাটার। দলের উইকেট হারানোর মিছিলে যোগ দেন একাই লড়তে থাকা টিম শেইফার্টও। ফিফটি তুলেই আউট হয়ে যান তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ২৬ লে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।
দলীয় ৭২ রানে ৫ উইকেট পতনের পর আশা জাগান ড্যারিল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ২৮ বলে ৫২ রান যোগ করেন তারা। দলীয় ১২৪ রানে অক্ষরের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিচেল। তার ব্যাটে আসে ১১ বলে ১৭ রান। পরবর্তীতে অধিনায়ক স্যান্টনারও ফিরে যান ৩৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে। শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানেই কিউই ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ১৯ বলেই ৩ ছয় ও ৬ চারে ফিফটি তুলে নেন অভিষেক। তবে ফিফটি তুলেই বিদায় নেন তিনি। রাচিন রবীন্দ্রকে উইকেট দেওয়ার আগে ২১ বলে ৫২ রান করেন এই তারকা। অভিষেক ফেরার পর ঈশান কিশানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৮ বলে ১০৫ রান যোগ করেন সঞ্জু। ইনিংসের ১৬তম ওভারে ২০৩ রানের মাথায় সঞ্জুকে ফিরিয়ে বিধ্বংসী এই জুটি ভাঙেন জিমি নিশাম। ৪৬ বলে ৫ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৯ রান করে ফেরেন এই অভিজ্ঞ ওপেনার।
একই ওভারে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে কিছুটা চাপে ফেলে দেয় নিউজিল্যান্ড। ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরেক সেট ব্যাটার ঈশান কিশান (৫৪)। পরের বলেই গোল্ডেন ডাকে ফেরেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাতে ২০৪ রানেই চতুর্থ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপর ভারতের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। পরের তিন ওভারে কেবল ২৭ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। তবে শেষ ওভারে শিবম দুবের বিধ্বংসী ক্যামিওতে দলীয় আড়াইশো পেরোয় ভারত। ৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন দুবে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। নিশাম ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি ও রাচিন রবীন্দ্র।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ভারত : ২৫৫/৫ (২০ ওভার)
নিউজিল্যান্ড : ১৫৯/১০ (১৯ ওভার)
ফলাফল : ভারত ৯৬ রানে জয়ী
ক্রিফোস্পোর্টস/৮মার্চ২৬/বিটি





















