
সহযোগী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। চারটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো। খবর জিও সুপারের।
রোববার (৩১ মে) ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ কারণে কানাডার জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে কোনো প্রভাব পড়বে না।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদস্যপদ স্থগিত থাকলেও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় ক্রিকেট কানাডাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে খেলোয়াড়রা চলমান প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। একই সঙ্গে সদস্যপদ পুনর্বহালের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির প্রশাসনিক ও সুশাসনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতেই এসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে। শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে আইসিসির নরমালাইজেশন কমিটি।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, “সদস্যপদের বাধ্যবাধকতা গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের কারণে ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ অবিলম্বে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সদস্যপদ ফিরে পেতে তাদের সুশাসন ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো সমাধানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।”
তদন্তে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচ। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের রান তাড়ার সময় কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার করা পঞ্চম ওভারটি তদন্তের আওতায় এসেছে। ওই ওভারে তিনি ১৫ রান দেন, যার মধ্যে একটি নো-বল ও একটি ওয়াইড ছিল।
এ ছাড়া সাবেক প্রধান কোচ খুররম চোহানের ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপও তদন্তের অংশ। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ক্রিকেট কানাডার শীর্ষ কর্মকর্তারা তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন আরেক সাবেক প্রধান কোচ পুবুদু দাসানায়েকেও। তার দাবি, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দল নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়কে দলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চুক্তি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। পরে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ এনে ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেন তিনি।
গত এক বছরে ক্রিকেট কানাডা ধারাবাহিকভাবে নানা প্রশাসনিক সংকটের মুখে পড়ে। সাবেক প্রধান নির্বাহী সালমান খানের নিয়োগ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তার বিরুদ্ধে অতীতের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগে আইসিসি তদন্ত শুরু করেছিল।
পরে ক্যালগেরি পুলিশ সালমান খানের বিরুদ্ধে চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ আনে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে আমজাদ বাজওয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্রিকেট কানাডার নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অরবিন্দর খোসা।
ক্রিফোস্পোর্টস/২জুন২৬/এনডি





















