Connect with us
ফুটবল

মাঠের তারকা থেকে সংসদের স্পিকার, মেজর হাফিজের দীর্ঘ পথচলা

Major hafiz
স্পিকার হলেন সাবেক ক্রীড়াবিদ মেজর হাফিজ। ছবি: সংগৃহীত

সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব থাকে তার ওপর। চলমান জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (অবসরপ্রাপ্ত মেজর), যিনি মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীরবিক্রম উপাধি পেয়েছেন।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে হাফিজ উদ্দিনের পরিচয় মূলত রাজনীতিবিদ হিসেবে। কিন্তু একসময় তিনি দেশের অন্যতম পরিচিত ক্রীড়াবিদ ছিলেন। অ্যাথলেটিক্স ও ফুটবল দুই খেলাতেই তিনি সমান সাফল্য দেখিয়েছেন।

পাকিস্তান আমলে তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড়ের পাকিস্তান দলে জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন ছিল। সেই বাধা পেরিয়ে নিজের যোগ্যতায় তিনি দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং সুনামের সঙ্গে খেলেছিলেন।



স্বাধীনতার পর ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ঢাকা–এর হয়ে লিগ ফুটবলে খেলেছেন তিনি। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্বও আছে তার। একটি ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিক করার ঘটনাও রয়েছে। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ না পাওয়াটা তার জীবনের একটি আক্ষেপ হিসেবেই থেকে গেছে।

ফুটবলে তার সাফল্যের কথা বেশি আলোচনা হলেও অ্যাথলেটিক্সেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। একশ মিটার দৌড় অ্যাথলেটিক্সের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা। স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তানে তিনি একাধিকবার দ্রুততম মানবের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। দৌড়ের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ব্লু পদকও অর্জন করেন।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। দেশের ফুটবল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের বাইরে এশিয়ার ফুটবল সংস্থার সহসভাপতি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন ‘সোনালী অতীত ক্লাব’ গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতিতে বেশি সময় দিতে শুরু করেন। এরপর ক্রীড়াঙ্গনে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি তাকে। রাজনীতিতে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন, মন্ত্রীও হয়েছেন। তবে ক্রীড়াঙ্গন থেকে উঠে এসে স্পিকার হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।

এবার জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে উঠে আসা একজন মানুষের এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও একটি সম্মানের বিষয়।

ক্রিফোস্পোর্টস/১২মার্চ২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল