বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অপর গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্তভাবে সেগুলো রুখে দেন। ২৫ মিনিটে এমবাপ্পেকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। তবে এমবাপ্পের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন বুনু। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ পেনাল্টি রক্ষা, যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বোচ্চ।
প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৬০ মিনিটে দেজিরে দুয়ের বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। ছয় মিনিট পর আবারও তাঁর পা থেকেই আসে আক্রমণের সূচনা। এমবাপ্পের পাস পেয়ে নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরক্কো আক্রমণের চেষ্টা চালালেও ফরাসি রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে নিল এল আইনাউইয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। আজ্জেদিন উনাহির দূরপাল্লার শটও ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আফ্রিকার দলটি।
এই ম্যাচে এক গোল ও এক গোলে সহায়তা করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। পাশাপাশি তিনটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। অর্থাৎ এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তাঁর। ফ্রান্সের জার্সিতে তাঁর মোট গোল ও গোলে সহায়তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১।
অন্যদিকে দেম্বেলের এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে পঞ্চম গোল। ফলে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো একই বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল করা দুই ফুটবলার পেল ফ্রান্স। তারা হলেন এমবাপ্পে ও দেম্বেলে।
এই জয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স। অন্যদিকে, চার বছর আগে যেমন ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল মরক্কো, এবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো।
ক্রিফোস্পোর্টস/১০জুলাই২৬/টিএ



