
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এখন অনেক বেশি স্বাভাবিক ও খোলামেলা বলে জানিয়েছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। তার মতে, বর্তমান দলে খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যা মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক সময় মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে একসঙ্গে পঞ্চ পাণ্ডব বলা হতো। তাদের উপস্থিতির কারণে দলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন তারাই। সেই সময়ে নতুনদের জন্য জায়গা পাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠা অনেকটাই কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তৎকালীন ও বর্তমান ক্রিকেটাররা।
সম্প্রতি একই বিষয়ে কথা বলেছেন লিটন দাস। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি জানান, জাতীয় দলে প্রথম দিকে আসার সময় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের আধিপত্য ছিল বেশি। সিনিয়রদের সঙ্গে বয়স ও অভিজ্ঞতার বড় ব্যবধান থাকায় তখন নতুন খেলোয়াড়দের স্বাভাবিকভাবে মিশে যাওয়া বা নিজেদের মত প্রকাশ করা সহজ ছিল না। অনেক সময় নিজেদের গুটিয়ে রাখতেই হতো বলে জানান তিনি।
লিটন আরও বলেন, তখনকার পরিবেশে নতুন খেলোয়াড়রা অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারতেন না। তবে সিনিয়ররা খেলোয়াড়সুলভ আচরণ করতেন এবং দলের ভেতরে আনন্দের পরিবেশ রাখার চেষ্টা করতেন।
এখনকার দল নিয়ে লিটন জানান, বর্তমান দলে বয়সের বড় পার্থক্য নেই। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী একাধিক খেলোয়াড় দলে আসায় সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এতে করে দলের ভেতরে আলাদা দূরত্ব বা অস্বস্তি নেই।
তিনি আরও জানান, ড্রেসিংরুমে এখন আনন্দের পরিবেশ থাকে এবং খেলাটাকে উপভোগ করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা ভাবে মিশতে পারে, যা আগে সবসময় সম্ভব ছিল না।
লিটনের মতে, ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করতে হলে মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকা জরুরি। তাই তিনি মনে করেন, যতটা সম্ভব ড্রেসিংরুমকে সহজ ও চাপমুক্ত রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, দলে কাউকে আলাদা করে বড় বা বিশেষ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে খেললে দল আরও ভালোভাবে এগোতে পারে।
বর্তমান দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হওয়ায় মাঠের ভেতরেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৭মে২৬/টিএ





















