বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা নিয়েই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেমেছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। তবে শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচই হয়ে উঠল পুরো আসরের সবচেয়ে উপভোগ্য লড়াইগুলোর একটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলের লড়াইয়ে জমে ওঠা ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন ডেক্লান রাইস। এরপর ১৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান এজেরি কনসা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বুকায়ো সাকা টানা দুটি গোল করলে বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করতে হয় ফ্রান্সকে।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে প্রথম গোল করে আশা জাগান কিলিয়ান এমবাপে। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলা একটি গোল করেন। ৬৬ মিনিটে আবারও গোল করেন এমবাপে। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান। তার বিশ্বকাপে মোট গোল দাঁড়ায় ২২টি। একই সঙ্গে চলতি আসরে গোলসংখ্যাও সবার ওপরে নিয়ে যান তিনি।
ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার চেষ্টা করছে, তখন ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের তৃতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে স্বস্তি এনে দেন সাকা। বিশ্বকাপের নকআট পর্বে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিন গোল করার কৃতিত্বও গড়েন তিনি। যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলে আরেকটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড। এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরে ফিরতে হয়েছিল তাদের। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে এর আগে কখনোই ছয় গোল হজম করেনি ফ্রান্স।
এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। দুই দল মিলে ১০টি গোল করেছে, যা ১৯৫৮ সালে ফ্রান্স ও পশ্চিম জার্মানির ম্যাচে হওয়া ৯ গোলের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ম্যাচটিতে ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসেও নতুন কীর্তি গড়েছেন। এক আসরে সাতটি গোলে সহায়তা করে তিনি বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ সহায়তার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯জুলাই২৬/টিএ



