
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না ইকুয়েডরের। সেই কঠিন কাজটাই করে দেখাল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে জার্মানিকে হারিয়েছে তারা। এই জয়ে ২০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হেরেছিল ইকুয়েডর। এরপর নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র করায় তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তাই জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের আগে খুব কম মানুষই ইকুয়েডরের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই ধারণা বদলে দিয়েছে দলটি।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল ইকুয়েডর। তবে মূল প্রতিযোগিতার শুরুটা তাদের প্রত্যাশামতো হয়নি। অন্যদিকে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে জার্মানি আগেই শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে ফেলেছিল। সেই জার্মানিকেই হারিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে নিয়েছে ইকুয়েডর।
বিশ্বকাপে এর আগে মাত্র একবার নকআউট পর্বে খেলেছিল ইকুয়েডর। সেটি ছিল ২০০৬ সালে। সেই আসরেও স্বাগতিক জার্মানির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা। এরপর ২০১৩ সালের প্রীতি ম্যাচেও জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে পরাজিত হয়। তাই এই জয়টি ইকুয়েডরের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। নাথানিয়েল ব্রোনের থ্রো থেকে বল পেয়ে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ আক্রমণ শুরু করেন। তার কাছ থেকে বল পেয়ে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ পাস দেন লেরয় সানেকে। কয়েকজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে নেওয়া শটে গোল করেন তিনি।
তবে বেশি সময় পিছিয়ে থাকতে হয়নি ইকুয়েডরকে। নবম মিনিটে মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে পেদ্রো ভিতে পাস দেন নিলসন আঙ্গুলোকে। তিনি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে সমতা ফেরান। এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে থাকে ইকুয়েডর। জার্মানিও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে আসে নির্ধারণকারী গোল। কর্নার থেকে আসা বলে সতীর্থের মাথা ছোঁয়া বল ধরতে এগিয়ে আসেন জার্মান গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার। ঠিক সেই সময় গঞ্জালো প্লাতা পায়ের হালকা ছোঁয়ায় বল জালে পাঠিয়ে ইকুয়েডরকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন।
বাকি সময়ে জার্মানি সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইকুয়েডর। এই জয়ে ২০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৬জুন২৬/টিএ



















