
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে। ম্যাচের আগে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে তাকে মাঠে না নামিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। পরে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামানো হয় ব্রাজিলের এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অসংখ্য সমর্থক।
সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন, যদি নেইমার সত্যিই পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট থাকেন, তাহলে তাকে শুরু থেকেই খেলানো উচিত ছিল। একজন লিখেছেন, ‘নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্তই ভুল। তার জায়গায় তরুণ ও দ্রুতগতির একজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘যদি তিনি ৯০ মিনিট খেলতে পারেন, তাহলে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার কোনো কারণ ছিল না।’
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল ব্রাজিল। প্রথম দিকে নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর শেষ দিকে জোড়া গোল করে নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেন এরলিং হলান্ড।
ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। গোল করার পর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাকাটাকাটিও করেন তিনি। এতে সময় নষ্ট হওয়ায় অনেক সমর্থক তার আচরণেরও সমালোচনা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘দল যখন হেরে যাচ্ছে, তখন এমন আচরণের কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ আরেকজন বলেন, ‘গুরুত্বহীন একটি গোল করার পর প্রতিপক্ষকে উসকানি দেওয়া ঠিক হয়নি।’
ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণাও দেন তিনি। তবে তার বিদায়ের আবেগের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত। অনেক সমর্থকের মতে, নেইমার যদি পুরো ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে তাকে শুরু থেকেই খেলানো উচিত ছিল। ব্রাজিলের বিদায়ের পর সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরে ফিরে আসছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৬জুলাই২৬/টিএ





















