টানা দ্বিতীয় জয়ে ছন্দে ফিরেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ব্যাটে–বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানে হারিয়েছে দলটি। টুর্নামেন্টের শুরুতে টানা ছয় ম্যাচ হারা নোয়াখালী এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল। ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দেন মূলত বাবা–ছেলে জুটি। ব্যাট হাতে হাসান ইসাখিল এবং বল হাতে মোহাম্মদ নবী।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন কেউই বড় রান করতে পারেননি। ১০ বলে ১১ রান করা গুরবাজ ক্যাচ দেন হাসান মাহমুদের বলে। মামুন ফেরেন ৮ বলে মাত্র ২ রান করে। একই ওভারে সাইফ হাসানও শূন্য রানে ফেরেন ইহসানউল্লাহর শিকার হয়ে।
পরের ওভারেই বিদায় নেন নাসির হোসেন। চার বল খেলেও রানখাতা খুলতে পারেননি তিনি। মেহেদী হাসান রানার বলে হাবিবুর রহমান সোহানের হাতে ধরা পড়েন নাসির। স্কোরবোর্ডে তখন ঢাকার সংগ্রহ ১৯ রানে ৪ উইকেট। ম্যাচ মূলত তখনই হাতছাড়া হয়ে যায়।
তবে এর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে ৩৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে শামীমের আগ্রাসী ইনিংসও বড় করতে পারেননি। ১৬ বলে ২৯ রান করে সৌম্য সরকারের নেওয়া ক্যাচে বিদায় নেন শামীম।
এরপর মিঠুন ও সাব্বির রহমান মিলে করেন ২২ রান। অধিনায়ক মিঠুন ৩১ বলে ৩৩ রান করে নবীর বলেই ক্যাচ দেন। সাব্বিরও বেশি দূর যেতে পারেননি। ১০ বলে ১৩ রান করে রানার বলে আউট হন। এর পর আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি ঢাকা।
শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিছুটা লড়াই করেন। ২০ বলে ৩৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তাতে কেবল হারের ব্যবধানই কমে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ২০ ওভারে ১৪৩ রানে অলআউট হয় ঢাকা।
নোয়াখালীর হয়ে নবী ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। রানার, হাসান মাহমুদ ও ইহসানউল্লাহ নেন দুটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী পায় দুর্দান্ত শুরু। হাসান ইসাখিল ও সৌম্য সরকার পাওয়ারপ্লেতেই তোলেন ৬৪ রান। তাদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ১০১ রানে। ২৫ বলে ৪৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সৌম্য আউট হন সাব্বির রহমানের ক্যাচে।
সৌম্যর পর দ্রুত ফিরে যান শাহাদাত হোসেন দিপু ও হাবিবুর রহমান সোহান। দুজনকেই ফেরান তাইজুল ইসলাম। ১১৯ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ম্যাচের দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ নবী ও তার ছেলে ১৯ বছর বয়সী হাসান ইসাখিল। বাবা–ছেলের ব্যাটে ৩০ বলে আসে ৫৩ রান।
নবী ১৩ বলে ১৭ রান করে আউট হলেও ইসাখিল ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে সেঞ্চুরি না পাওয়ায় হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
শেষদিকে নোয়াখালীর মিডল ও লোয়ার অর্ডার বড় রান করতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানেই থামে ইনিংস। ঢাকার হয়ে দুইটি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন, তাইজুল ও মামুন।
অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা হন হাসান ইসাখিল।
ক্রিফোস্পোর্টস/১১জানুয়ারি২৬/টিএ
