লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে এসে হিসাবটা ছিল দুই রকম। ঢাকা ক্যাপিটালসের সামনে ছিল সম্মানজনক বিদায়ের সুযোগ, আর চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করার সুযোগ। ঢাকা বড় জয়ে আসর শেষ করেছে, আর চট্টগ্রাম হেরেও নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে জায়গা করে নিয়েছে প্রথম কোয়ালিফায়ারে।
এদিকে, টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি ঢাকার। জুবাইদ আকবরি ও উসমান খান ২৫ রানের জুটি গড়েন। তবে উসমান ৬ বলে ১৬ রান করে ফিরে গেলে চাপ বাড়ে। তিন নম্বরে নেমে সাইফ হাসান দুর্দান্ত খেলেন। পাওয়ারপ্লে শেষে ১ উইকেটে ৫৩ রান তোলে ঢাকা।
এরপর ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাট করে সাইফ। পুরো বিপিএলে রান না পাওয়া এই ব্যাটার শেষ ম্যাচে এসে খেলেছেন নিজের সেরা ইনিংস। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন তিনি। জুবাইদ তুলনামূলক ধীরগতির ছিলেন, ৩০ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন দলীয় ১১২ রানে। পরের বলেই গোল্ডেন ডাক মারেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী।
সাইফের ইনিংস থামে ৪৪ বলে ৭৩ রানে। তার বিদায়ের পর ঢাকার রানগতি কমে যায়। নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ১২ বলে ১৫ রান করেন, সাইফউদ্দিন যোগ করেন ৮ বলে ১২। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১৭০ রানে অলআউট হয় ঢাকা ক্যাপিটালস।
চট্টগ্রামের বোলিংয়ে তানভীর ইসলাম নেন ৩ উইকেট। আমের জামাল ও শরিফুল ইসলাম শিকার করেন ২টি করে। শেখ মেহেদী হাসান ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ পান একটি করে উইকেট।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম। প্রথম বলেই মোহাম্মদ হারিসকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। এরপর মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম ফিরলে ১৯ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় দলটি। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৮।
নাঈম শেখ ২১ বলে ১৮ করে ফিরলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি কেউই। হাসান নওয়াজ করেন ১৯, অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ১২ বলে মাত্র ৩ রান। আসিফ আলীও ধীরগতির ব্যাটিংয়ে থামেন ১২ রানে।
শেষদিকে একাই লড়াই করেন আমের জামাল। ২৬ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শরিফুল ইসলাম ৬ বলে ১৪ রান যোগ করলেও ২ বল বাকি থাকতে ১২৮ রানে অলআউট হয় চট্টগ্রাম রয়্যালস।
ঢাকার হয়ে দারুণ বোলিং করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ২০ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। তাসকিন আহমেদ শিকার করেন ৩টি উইকেট। তোফায়েল আহমেদ ও ইমাদ ওয়াসিম নেন একটি করে।
৪২ রানের এই জয়ে বিপিএল অভিযান শেষ করল ঢাকা ক্যাপিটালস। আর হারলেও নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে প্রথম কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অন্যদিকে এলিমিনেটরে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স। ২০ জানুয়ারি মাঠে গড়াবে দুই ম্যাচ।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৮জানুয়ারি২৬/টিএ
