আইএল টি–টোয়েন্টির চতুর্থ আসরে শেষ হাসি হাসল ডেজার্ট ভাইপার্স। দুবাইয়ে ফাইনালে সাকিবের এমআই এমিরেটসকে ৪৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে স্যাম কারানের দল। ব্যাটে–বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভাইপার্সের হাতেই।
১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে এমিরেটস শুরুতে কিছুটা ভালো শুরু করলেও ইনিংসের মাঝপথে এসে ব্যাটিং ধসে পড়ে। প্রথম দুই ওভারে মুহাম্মদ ওয়াসিম ও আন্দ্রে ফ্লেচার জয়ের আশা জাগালেও পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। টানা দুই ম্যাচে ফিফটি করা টম ব্যান্টনও এবার ব্যর্থ হন।
তিন নম্বরে নেমে সাকিব আল হাসান কাইরন পোলার্ডকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দেখেশুনে খেলে ধীরে ধীরে রান তুলছিলেন দুজনই। তবে অতিরিক্ত রান চাপে ষোলোতম ওভারে উসমান তারিককে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং–অফে ধরা পড়েন তিনি। ২৭ বলে ৩৬ রানের ইনিংসটি ছিল এমিরেটসের পক্ষে সর্বোচ্চ। পরের ওভারে পোলার্ড বিদায় নিলে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যায়। শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলে ১৮.৩ ওভারেই ১৩৬ রানে অলআউট হয় এমিরেটস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভাইপার্সের শুরুটা খুব বড় কিছু না হলেও দারুণভাবে রান এনে দেন মিডল অর্ডার। ফখর জামান ও জেসন রয় দ্রুত ফিরে গেলেও তিন নম্বরে ম্যাক্স হোল্ডেন ৩২ বলে ৪১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় অধিনায়ক স্যাম কারানের ব্যাটে। চার ও ছক্কায় সাজানো ৫১ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংসে ভাইপার্সকে পৌঁছে দেন ১৮২ রানের লড়াকু সংগ্রহে।
মাঝপথে নিয়মিত অধিনায়ক লকি ফার্গুসন চোটে ছিটকে যাওয়ার পর দলের নেতৃত্ব পান কারান। ফাইনালে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টেই ছিলেন সবচেয়ে ধারাবাহিক। ১২ ম্যাচে প্রায় চারশ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হওয়ায় টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতেই।
এমিরেটসের হয়ে বোলিংয়ে সাকিব প্রথম ওভারে ১০ রান দেওয়ার পর আর বল হাতে ফেরেননি। ফারুকি ও নাসিম শাহ উইকেট পেলেও শেষ পর্যন্ত ভাইপার্সের জয় আটকানো যায়নি।
এই জয়ে টানা দুই ফাইনালে হারের হতাশা কাটাল ডেজার্ট ভাইপার্স। চার আসরে চারটি ভিন্ন দলের শিরোপা জয়ের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকল। আর ২০১০ সালের পর প্রথমবার কোনো টি–টোয়েন্টি ফাইনালে হারল এমআই ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো দল।
ক্রিফোস্পোর্টস/৫জানুয়ারি২৬/টিএ
