
দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই ভাই রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান। সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছেন রোনান। তবে রোনান সুযোগ পেয়ে আলো ছড়ালেও পর্যাপ্ত সুযোগ মেলেনি ডেকলানের। তবে এ নিয়ে অসন্তুষ্ট নন এই তরুণ ফুটবলার।
সাফের প্রতিটি ম্যাচেই শুরু একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন রোনান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের সেরাটা উপহার দিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফ্রি-কিক গোলসহ জোড়া গোল করেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে তার অ্যাসিস্ট থেকেই ভারতের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে নেপালের তার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। সবশেষ ফাইনালে পানেনকা থেকে দুর্দান্ত গোলে শিরোপা নিশ্চিত হয় লাল-সবুজদের।
অন্যদিকে রোনানের অর্ধেক সুযোগও পাননি ডেকলান। গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচে স্কোয়াডে রাখলেও এক মিনিটের জন্যও তাকে খেলাননি কোচ। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক ঘটে ডেকলানের। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন তিনি। শেষদিকে নেমেও বড় একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন এই রাইটব্যাক।
তবে ফাইনালেও শুরুর একাদশে রাখা হয়নি ডেকলানকে। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন তিনি। এরপর ডান প্রান্ত ধরে বেশকিছু সুযোগ তৈরি করেছেন ডেকলান। তার বানিয়ে দেওয়া বল থেকে গোলের সুযোগও পেয়েছিলেন রোনান। তবে ফিনিশিংটা করতে পারেননি তার ভাই।
সবমিলিয়ে পুরো আসরে যতটুকু খেলার সুযোগ পেয়েছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট ডেকলান। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে এটা স্বাভাবিক বিষয়। আমার কাছে টিম স্পিরিটই প্রধান বিষয়। দলের প্রয়োজনে যখন যেখানে প্রয়োজন, আমি সেখানেই খেলার জন্য প্রস্তুত। সবমিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
ডেকলান ও রোনান যতক্ষণ একসাথে মাঠে ছিলেন তখন দুই ভাইয়ের বোঝাপড়াটা দারুণভাবে ফুটে উঠেছিল। এ নিয়ে ডেকলান বলেন, ‘আমরা দুজন একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি এবং একসঙ্গে খেলছি। আমার ডেলিভারি মুহূর্ত ও তার রিসিভিং পজিশন সম্পর্কে আমাদের বেশ ভালোভাবেই জানা।’
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সাফের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে গোলের দেখা পায়নি কেউ। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে বাংলাদেশ।
ক্রিফোস্পোর্টস/৫এপ্রিল২৬/বিটি






















