
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি বাতিল করেছে কঙ্গো। রাজধানী কিনশাসায় তিন দিনের অনুশীলনের পাশাপাশি সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত বিদায়ী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলে বিরল ধরনের বান্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও কয়েকশ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তবে প্রস্তুতির বাকি সূচিতে পরিবর্তন আনছে না কঙ্গো। আগামী ৩ জুন বেলজিয়ামের লিয়েজে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ৯ জুন স্পেনে চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে দলটি।
দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো জানিয়েছেন, প্রস্তুতির প্রথম ধাপ ছিল কিনশাসায় সমর্থকদের বিদায় জানানো। এরপর ইউরোপে দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং শেষ ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুশীলনের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু কিনশাসার কর্মসূচিই বাতিল করা হয়েছে।
কঙ্গো দলের বেশিরভাগ ফুটবলার বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়াঁ দেসাব্রেসহ অধিকাংশ খেলোয়াড় ইউরোপে অবস্থান করছেন এবং অনেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে, যাতে দলটি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সহায়তা পায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জানিয়েছে, কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা বিদেশি নাগরিকদের ওপর ৩০ দিনের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, যদি তারা সম্প্রতি ওই দেশগুলোতে অবস্থান করে থাকেন।
তবে কঙ্গো বিশ্বকাপ দল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। কারণ দলটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপে অনুশীলন করছে। তবে সম্প্রতি কঙ্গো সফর করা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আলাদা স্বাস্থ্যবিধি মানতে হতে পারে।
বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে থাকা কঙ্গো ১৭ জুন পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে। এরপর তারা কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে।
১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে কঙ্গো। তখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতার পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশটির মানুষের জন্য বড় আনন্দের খবর হয়ে উঠেছিল।
ক্রিফোস্পোর্টস/২১মে২৬/টিএ






















