বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জুড বেলিংহাম। দলের দুটি গোলই করেন তিনি। টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজের দুর্দান্ত ছন্দও ধরে রাখলেন এই মিডফিল্ডার।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ইংল্যান্ডের। তবে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। বরং ৩৬ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। নিজেদের অর্ধ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন মার্টিন ওডেগার্ড। তাঁর পাস থেকে বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে শট নেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। বল পোস্টে লেগে জালে জড়ালে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করার ভালো সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু আলেক্সান্দার সরলথ ফাঁকায় থাকা আর্লিং হলান্ডকে বল না দিয়ে নিজেই চেষ্টা করেন। সেই সুযোগ নষ্ট হওয়ার কিছুক্ষণ পরই সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল থেকে বক্সের ভেতর বাঁ পায়ের শটে গোল করেন বেলিংহাম। এরপর হ্যারি কেইন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে টোরবিয়র্ন হেগেম বল জালে পাঠালেও পরে চিত্র সহকারী রেফারির সহায়তায় দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে আর্লিং হলান্ড প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করেছিলেন। তাই গোলটি বাতিল করা হয়। এরপর ক্রিস্টোফার আয়েরের হেড ক্রসবারে লাগে। ফিরতি সুযোগেও গোল করতে পারেননি হলান্ড। শেষ দিকে আন্তোনিও নুসার শটও ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে শুরু থেকেই আক্রমণের চেষ্টা চালায় দুই দল। ৯২ মিনিটে হ্যারি কেইনের মাথার শট নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিলান্ড ফিরিয়ে দিলেও পরের মিনিটে মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট ঠিকমতো ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে সহজেই জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন বেলিংহাম।
এর কিছুক্ষণ পর ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পেলেও পরে চিত্র সহকারী রেফারির সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলে যায়। শেষ সময় পর্যন্ত সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ চালায় নরওয়ে। ১০৯ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে স্পেন্স ও বুকায়ো সাকার পরপর দুটি সুযোগও দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নিলান্ড।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ২–১ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে গোল করতে পারেননি আর্লিং হলান্ড। প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ সময় পর গোলশূন্য থাকলেন তিনি। অন্যদিকে বেলিংহাম টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে নতুন একটি কীর্তি গড়েছেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি টানা দুটি নকআউট ম্যাচে দুটি করে গোল করলেন।
ক্রিফোস্পোর্টস/১২জুলাই২৬/টিএ



