
সিলেট টেস্টে এখন চালকের আসনে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা করেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাসিত আলী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের দল নির্বাচন, বোলিং সমন্বয় এবং কোচিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বিশ্লেষণে বাসিত বিশেষভাবে প্রশংসা করেন নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামদের বোলিংয়ের।
তৃতীয় দিনের শেষ দিকে মাত্র দুই ওভার ব্যাটিং করে পাকিস্তান। সেই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে বাসিত বলেন, দিনের শেষ ভাগে মেঘলা আবহাওয়া ও বলের নড়াচড়া তরুণ ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল।
তার মতে, ওই সময়ে যে কোনো দলের ব্যাটারদেরই সমস্যায় পড়তে হতো। বিশেষ করে পাকিস্তানের তরুণ দুই ব্যাটার আজান ও ফজল চাপে ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এই দুই ব্যাটার বড় জুটি গড়তে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলেও মনে করেন বাসিত। তিনি বলেন, তারা যদি শত রানের জুটি করতে পারে, তাহলে ম্যাচ প্রথম টেস্টের মতো একপেশে হবে না।
বাংলাদেশের পেস বোলিং নিয়ে প্রশংসা করতে গিয়ে বাসিত বলেন, বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে ঠিক জায়গায় বল ফেলছে। বিশেষ করে শরিফুল ও তাসকিনের বোলিং তার নজর কেড়েছে।
এ সময় বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইটকেও আলোচনায় আনেন তিনি। বাসিত বলেন, পাকিস্তান যাকে বাদ দিয়েছে, সেই শন টেইট এখন বাংলাদেশে ভালো কাজ করছেন। তাই পাকিস্তানের উচিত নিজেদের সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে ভাবা।
পাকিস্তানের একাদশ নির্বাচন নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন বাসিত। বিশেষ করে সাজিদ খানকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, এমন বোলার দরকার যে ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করবে এবং স্লিপে ক্যাচ তুলতে পারবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপেই পাকিস্তান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বাসিতের মতে, বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় অফ স্পিনার খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সঠিক ছিল না।
এ সময় তিনি সালমান আলী আগা ও নোমান আলীর কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, সালমানকে আরও বেশি ওভার দিলে তিনি উইকেট এনে দিতে পারতেন। পাশাপাশি নোমান আলীকেও বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি তিনি।
বাংলাদেশের বোলিং মোকাবিলায় পাকিস্তানের ব্যাটারদের ধৈর্য ধরে খেলার পরামর্শ দেন বাসিত। তিনি বলেন, প্রতিটি সেশন পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে। কয়েকটি বড় শট খেলে উইকেট ছুড়ে দিলে চলবে না।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে সতর্ক করতে গিয়ে তিনি বলেন, নতুন বল সামলানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এরপর আসবে নাহিদ রানা, যাকে তিনি “বাংলাদেশের শোয়েব আখতার” বলে উল্লেখ করেন।
নাহিদকে সামলাতে আলাদা পরিকল্পনার প্রয়োজন বলেও মনে করেন বাসিত। তার মতে, নাহিদের গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে।
একই সঙ্গে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেষে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচদের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাসিত। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কোচদের ব্যাটারদের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯মে২৬/টিএ





















