বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোর জন্য একটি নজির হয়ে থাকতে পারে এমন মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান মার্ক বুচার। উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে তিনি বলেন, খেলাটির স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার মর্যাদা ধরে রাখতে হলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানই অনুসরণ করা উচিত।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ৪ জানুয়ারি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে ২১ জানুয়ারির বোর্ড সভার পর আইসিসি জানায়, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। অবস্থান পরিবর্তন না করায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, যা শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
এই সিদ্ধান্তকে বুচার আখ্যা দিয়েছেন ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’ হিসেবে। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের পাকিস্তান সফর না করার ঘটনাও। তখন নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে দুবাইয়ে ভারতের ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল।
বুচারের মতে, অতীতে টুর্নামেন্টের কাঠামো বদলে সমাধান বের করার নজির আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়গুলো যেভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে, তা ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। তাঁর মতে, যদি কোনো দল সরকারি সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনো কারণে নির্দিষ্ট দেশে গিয়ে খেলতে না চায়, তাহলে সেই দলকে বাদ দিয়ে টুর্নামেন্ট চালিয়ে নেওয়াই যৌক্তিক পথ। পরের দল সুযোগ পাবে, আর প্রতিযোগিতা চলবে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রসঙ্গ টেনে বুচার বলেন, ভারতের অবস্থান আগে থেকেই অনুমেয় ছিল এবং আইসিসির সামনে তখন বিকল্প ভাবার সুযোগ ছিল। তবে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। তাঁর মতে, নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার না থাকলে ভবিষ্যতে একই ধরনের জটিলতা আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ বাদ পড়ার আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানায়নি পাকিস্তান।
বুচার মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়ভার সংশ্লিষ্ট দলেরই নেওয়া উচিত। হয় আপনি যাবেন এবং খেলবেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। না হলে সরে দাঁড়াবেন, অন্য কেউ খেলবে। সামনে এগোনোর এটিই একমাত্র ন্যায্য উপায়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ৭১ টেস্ট খেলা বুচার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল লাল বলেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের মতে, ক্রিকেটের আর্থিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা তার চেয়েও বড় বিষয় হওয়া উচিত।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩০জানুয়ারি২৬/টিএ
