২০২৬ সাল বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে। জুন-জুলাইজুড়ে চলবে ফুটবল উন্মাদনা। তবে বিশ্বকাপের আড়ালে পড়ে থাকছে না বাংলাদেশের ফুটবল। বরং নারী ও পুরুষ দুই শাখাতেই বছরজুড়ে অপেক্ষা করছে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সূচি।
বছরের শুরুতেই ব্যস্ততায় নামছে বাংলাদেশ ফুটবল। নারী ও পুরুষ জাতীয় দল একসঙ্গে অংশ নেবে সাফ ফুটসালে। এ উপলক্ষে আজ (১ জানুয়ারি) বছরের প্রথম দিনেই দুই দলের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সাত বছর পর আবার ফুটসালে ফিরছে বাংলাদেশ নারী দল, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নারী ফুটবলের জন্য ২০২৬ সাল বিশেষ সম্ভাবনার বছর। ১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হবে নারী এশিয়ান কাপ। ইতিহাসে প্রথমবার এই আসরের মূল পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে পঞ্চম বা ষষ্ঠ হতে পারলে ২০২৭ ব্রাজিল নারী বিশ্বকাপের প্লে-অফে খেলার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সামনে খুলে যেতে পারে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকের দরজাও।
এশিয়ান কাপের পরপরই এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্ব। এখানেও প্রথমবার অংশ নেবে বাংলাদেশ। শীর্ষ চার নিশ্চিত করতে পারলে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে দলটি।
দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ২০২৬ সালেও মাঠে নামবে ঋতুপর্ণা-আফিদারা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুইবার শিরোপা জেতা বাংলাদেশ এবার হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে খেলবে। এই আসরের স্বাগতিক হওয়ার আগ্রহও দেখিয়েছে বাফুফে।
নারী দলের জন্য আরেকটি বড় মঞ্চ এশিয়ান গেমস।এখানে পুরুষ ফুটবল দল খেলবে অনূর্ধ্ব-২৩ ফরম্যাটে হলেও নারী ফুটবলে অংশ নেয় সিনিয়র দল। নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য এটি হবে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
পুরুষ ফুটবলে ব্যস্ততা তুলনামূলক কম হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রয়েছে। ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগেই মূল পর্ব নিশ্চিত করা সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারলে বাছাই পর্ব শেষ হবে সম্মানজনকভাবে। ওই ম্যাচের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টাও করছে বাফুফে।
এশিয়ান কাপ বাছাই শেষ হওয়ার পর পুরুষ দলের নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সূচি আপাতত নেই। জুন উইন্ডোতে বিশ্বকাপের কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে বছরের শেষ ভাগে হতে পারে সাফ ফুটবল। সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর। এ সময় এশিয়ান গেমস থাকলেও ফুটবলে সীমিত দল অংশ নেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের জন্য সাফ আয়োজন বাধাগ্রস্ত হবে না।
এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসের ফুটবলে খেলতে পারছে না বাংলাদেশ পুরুষ দল। ১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিত অংশ নেওয়া এই টুর্নামেন্টে অনুপস্থিতি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক ধরনের শূন্যতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সূচির পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলেও থাকবে গতি। প্রায় এক যুগ পর আবার কোটি টাকার সুপার কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বছরের শুরুতেই।
ফুটবলের বাইরে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও বড় বড় ইভেন্ট রয়েছে। বিশ্বকাপের পরপরই জুলাই-আগস্টে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমস, সেপ্টেম্বরে জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমস। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি বড় মাল্টি স্পোর্টস ইভেন্ট দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া এপ্রিলে এশিয়ান বিচ গেমস, অক্টোবরে সেনেগালে ইয়ুথ অলিম্পিকেও অংশ নেবে বাংলাদেশ। কাবাডি, ফুটবল ছাড়াও বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ব্যস্ত থাকবে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল শুধু বিশ্বকাপের বছর নয়, বাংলাদেশের ফুটবল ও সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও এক ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/১জানুয়ারি২৬/টিএ
