
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে লিটন দাসের গড় ষাটের ওপরে। তবে মিরপুর টেস্টে ব্যাট হাতে রাঙাতে পারেননি তিনি। কিন্তু সিলেট টেস্টে এসে নিজের চেনা রূপে ফিরেছেন এই ব্যাটার। দলের বিপদের সময় ব্যাট করতে নেমে বীরত্বগাথা এক ইনিংস খেলেছেন লিটন। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে সম্মানজনক পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (১৬ মে) প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭৭ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ৷ জবাবে শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান। প্রথম দিন শেষে ২৫৭ রান পিছিয়ে সফরকারীরা।
এদিন সিলেটে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বিদায় নেন মাহমুদুল হাসান জয়৷ রানের খাতাই খুলতে পারেননি এই ওপেনার। এরপর মুমিনুল হক ও অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে শুরুর বিপত্তি সামাল দেয় টাইগাররা। এই জুটিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই রান তুলছিলো তারা।
তবে দলীয় ৪৪ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তানজিদ। অভিষেক ম্যাচে ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফেরে তিনি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত এসে মুমিনুলের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তবে এই জুটিও বড় হয়নি। বিশের ঘরে গিয়ে মুমিনুলও বিদায় নেন। দলীয় ৬৩ রানের মাথায় ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
মুমিনুল ফেরার পর মুশফিকুর রহিম এসে শান্তকে সঙ্গ দেন। এই জুটিতেই দলীয় শতরান পেরোয় টাইগাররা। মধ্যাহ্নভোজ বিরতিতে যাওয়ার আগে ২৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। তবে বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ১০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় শান্তরা।
দলীয় ১০৬ রানে বিদায় নেন শান্ত। ৭৪ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন এই ইনফর্ম ব্যাটার। এরপর মুশফিকও তার দেখানো পথে হাঁটেন। ১১০ রানের মাথায় তার উইকেটের পতন ঘটে৷ সাজঘরে ফেরার আগে ৬৪ বলে ২৩ রান করেন এই তারকা। এরপর দুই নতুন ব্যাটার লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে দলের বিপদে দাঁড়াতে পারেননি মিরাজও। ৪ রান করেই বিদায় নেন তিনি। তাতে ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।
তবে এরপরেই এক রূপকথার গল্প লেখেন লিটন। তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে ৬০ রান যোগ করেন তিনি। তাতে একটা সম্মানজনক সংগ্রহের পথে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। দলীয় ১৭৬ রানে তাইজুল বিদায় নেন। বিপদের সময়ে নেমে ১৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও খেলেন তিনি। এরপর তাসকিনকে নিয়ে আরও ৩৪ রান যোগ করেন এবং এই জুটিতেই দলীয় দুইশ রান পেরোয় টাইগাররা।

ক্রিজে এসে পুরোটা সময়জুড়ে পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করেন লিটন। ছবি- এএফপি
দলীয় ২১৪ রানের মাথায় বিদায় নেন তাসকিন (৭)। তবে তাসকিনের বিদায়ের পর শরিফুল ইসলামকে নিয়ে দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন লিটন। নবম উইকেট জুটিতে ৭৩ বলে ৬৪ রান যোগ করেন তারা। এটি বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এরমধ্যে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিও তুলে নেন লিটন। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরি করেও থামেননি লিটন। শেষদিকে আরও কিছু রান যোগ করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে দলীয় ২৭৮ রানের মাথায় তার উইকেটের পতন ঘটে৷ ১৫৯ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১২৬ রানের বীরত্বগাথা এক ইনিংস উপহার দেনে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ২৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের হয়ে ৮১ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন শাহিন আফ্রিদির জায়গায় দলে জায়গা করে নেওয়া খুররাম শেহজাদ। আগের ম্যাচে ফাইফার পাওয়া মোহাম্মদ আব্বাস ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া হাসান আলী ২টি এবং সাজিদ খান একটি উইকেট শিকার করেন।
দিনের শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান। ২০ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত আছেন আজান আওয়াইস এবং আআব্দুল্লাহ ফজল ১৬ বলে ৮ রানে অপরাজিত। আগামীকাল (রোববার) দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন তারা। সিলেটে সকাল ১০টায় শুরু হবে খেলা।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৬মে২৬/বিটি





















