
পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড সম্প্রতি নাসিম শাহের একটি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত সব ক্রিকেটারকে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট করার আগে বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে। বোর্ড জানিয়েছে, রাজনৈতিক ধরনের কোনো পোস্ট দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে অন্তত এক কোটি রুপি জরিমানা করা হবে।
পিসিবি আগে থেকেই ক্রিকেটারদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নীতি চালু রেখেছিল। তবে নাসিমের ঘটনায় বোর্ড আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ভক্ত মনে করছেন, এই পদক্ষেপে ক্রিকেটারদের বাকস্বাধীনতায় প্রভাব পড়তে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজকে ব্যঙ্গ করে নাসিমের একটি পোস্টের কারণে। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, কেন মারিয়ামকে সবসময় বিশেষভাবে সম্মান দেওয়া হয়। পোস্টটি তিনি কিছু সময়ের মধ্যে সরিয়ে দিলেও, অনেকেই ইতিমধ্যেই তা দেখে ফেলেছিলেন।
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর নাসিম দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। পিসিবি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। নাসিম নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইলেও ৩০ মার্চ তাকে দুই কোটি রুপি জরিমানা করা হয়। এটি বিশ্ব ক্রিকেটে নজিরবিহীন বড় জরিমানার মধ্যে একটি।
পিসিবির তদন্ত কমিটি নাসিমকে দুই বছর নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল। তবে বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি তা প্রতিরোধ করেন।
এই ঘটনার পর পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে বাধ্য হচ্ছেন। বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ক্রিকেটার অনুমতি ছাড়া পোস্ট দিলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত।
এই নতুন নিয়মের ফলে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বেড়ে গেছে। পিসিবি বলছে, এটি ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ। তবে সমালোচকরা বলছেন, এভাবে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হ্রাস পেতে পারে।
নাসিম শাহের এই ঘটনায় পাকিস্তানি ক্রিকেটে এখন সতর্কতার এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বোর্ডের এই কঠোর নীতি ক্রমশ ক্রিকেটারদের আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরনকে পুরোপুরি প্রভাবিত করবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/১এপ্রিল২৬/টিএ























