
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ইরানের নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। ইতোমধ্যে দলের পাঁচজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এবং দেশটির সরকার তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তবে দলের বাকি সদস্যরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা দেশে ফিরবেন, নাকি অস্ট্রেলিয়াতেই থাকার চেষ্টা করবেন।
ইরান নারী ফুটবল দল এশিয়া কাপ খেলতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় যায়। ঠিক সেই সময় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এর মধ্যে টুর্নামেন্টের শুরুতে ম্যাচের আগে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অনেকেই এটিকে নীরব প্রতিবাদ হিসেবে দেখেন। এই ঘটনার পর তাদের দেশে ফিরে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে দলের ২৬ সদস্যের মধ্যে পাঁচজন অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চান। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী টনি ব্রুক জানান, মানবিক ভিসার মাধ্যমে ওই খেলোয়াড়দের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য সহজ ছিল না, তবে আশ্রয় পাওয়ার পর তারা স্বস্তি অনুভব করছেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, শুধু পাঁচজন নয়, চাইলে দলের অন্য খেলোয়াড়রাও আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন। তাদের জন্য একই সুযোগ খোলা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ইরানের নারী ফুটবল দলকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না, যেখানে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়াকে খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো। তারা বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা এবং এশীয় ফুটবল সংস্থাকেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার টুর্নামেন্টে ফিলিপাইনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর গোল্ড কোস্টের একটি স্টেডিয়ামে ইরান দলের বাস ছাড়তে দেরি হয়। স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হওয়া কিছু মানুষ খেলোয়াড়দের সমর্থনে স্লোগান দেয় এবং ইরানের পুরোনো পতাকা প্রদর্শন করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফিফপ্রোর এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বোশ বলেন, ইরান দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে এখনো সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে খেলোয়াড়দের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া জরুরি।
ক্রিফোস্পোর্টস/১০মার্চ২৬/টিএ
























