
দীর্ঘদিন পর আবারও ইউরোপের সেরা চারে জায়গা করে নিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে বার্সেলোনা-কে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম শেষ চারে উঠল মাদ্রিদের দলটি।
দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় মোট ফলাফলে এগিয়ে ছিল আতলেতিকো। ফলে জয় না পেয়েও শেষ হাসি হাসে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে ফেরান তোরেসের বাড়ানো বল থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লামিনে ইয়ামাল। শুরুতেই এই গোল বার্সেলোনাকে নতুন করে আশা দেখায়।
এরপর ২৪ মিনিটে আবারও গোল পায় বার্সা। দানি ওলমোর কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন তোরেস। এই গোলের পর দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফিরে আসে কাতালানরা। তখন ম্যাচের গতি পুরোপুরি তাদের দিকেই ছিল।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৩১ মিনিটে। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন আদেমোলা লুকমান। মাঝমাঠ থেকে দারুণ একটি পাস বাড়ান মার্কোস লরেন্তো, সেটি কাজে লাগিয়ে গোল করেন লুকমান। এই গোলের পর আবারও চাপে পড়ে বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধে পুরোটা সময় বলের দখল রেখে খেলেছে বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। একবার বল জালে জড়ালেও পরে সেটি বাতিল করা হয়। কাছ থেকে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন দানি ওলমোসহ অন্যরা।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময় থেকে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নামান কোচ। আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে বার্সা। কিন্তু আতলেতিকোর রক্ষণভাগ ছিল বেশ গোছানো। তারা সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে।
৭৪ মিনিটে আতলেতিকোর আরেকটি শট ভালোভাবে ঠেকিয়ে দেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বড় ধাক্কা খায় দলটি। ৭৮ মিনিটে এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজন নিয়ে খেলতে হয় বার্সেলোনাকে। শুরুতে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলে লাল কার্ড দেওয়া হয়।
একজন কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে বার্সেলোনা। যোগ করা সময়ে একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন রবার্ট লেভানডফস্কি, কিন্তু সেটিও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আতলেতিকোর সমর্থকরা। নিজেদের মাঠে দারুণ এই সাফল্যে আনন্দে মেতে ওঠে দলটি। অনেক দিন পর আবারও ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানাল তারা।
এর আগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালেও কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারিয়েছিল আতলেতিকো। সেই দুই আসরেই তারা ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। এবারও একই পথে এগোতে চায় মাদ্রিদের ক্লাবটি।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৫এপ্রিল২৬/টিএ





















