বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের পরিচিত মুখ মো. আতাউর রহমান আর নেই। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আজীবন সমর্থক হিসেবে পরিচিত ‘আতা’ গতকাল (বুধবার) রাতে ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে মোহামেডান কর্তৃপক্ষ ও ক্লাব–সংশ্লিষ্ট সমর্থকরা।
দীর্ঘ সময় শিরোপাহীন থাকলেও মোহামেডানের পাশে থাকা সমর্থকদের অন্যতম ছিলেন আতা। জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল মানেই গ্যালারিতে তার উপস্থিতি ছিল প্রায় নিয়মিত। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও মাঠে বসে তরুণ সমর্থকদের মতোই চিৎকার–উল্লাসে মাততেন তিনি। প্রিয় দলের বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত গেলে রেফারির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেও ভাবতেন না। ফুটবলের পাশাপাশি মোহামেডানের ক্রিকেট ও হকি ম্যাচেও নিয়মিত দেখা যেত তাকে। যদিও তার মূল আবেগ ছিল ফুটবলকে ঘিরেই।
খেলার দিনগুলোতে স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর বাকি সময়ে ক্লাবের আশেপাশে এই ছিল আতার প্রতিদিনের ঠিকানা। জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কারের কারণে গত কয়েক বছর ঢাকার বাইরে খেলা হওয়ায় এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঠে আসা কমে গেলেও ক্লাবের খোঁজ রাখা থামাননি তিনি। সমর্থকরাও নিয়মিত তার বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নিতেন।
সবাইকে শোকার্ত করে গতকাল রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সবার প্রিয় আতা ভাই। তার মৃত্যুতে মোহামেডান পরিবার ও দেশের ফুটবলাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। আজ (বৃহস্পতিবার) বাদ জোহর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান। ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি মূলত ফুটবল দিয়ে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ক্রিকেট, হকি, টেবিল টেনিসসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ১৯৮০ ও ৯০ এর দশকে মোহামেডান দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেই এগিয়ে চলছে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও মোহামেডান শক্তিশালী ক্লাব হিসেবে সুপরিচিত। ক্রিকেট, হকি, ভলিবল, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস ইত্যাদি বিভিন্ন লিগে অংশগ্রহণ করে একাধিকবার শিরোপাও অর্জন করেছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৮জানুয়ারি২৬/টিএ
