সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বার্সেলোনার নতুন তারকা হিসেবে যখন হাজির হলেন অ্যান্থনি গর্ডন, তখন সেখানে উপস্থিত সবাইকে বিস্মিত করলেন তিনি। ব্রিটিশ এই উইঙ্গার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেন অনর্গল স্প্যানিশ ভাষায়।
পরে নিজেই সেই রহস্যের জট খুলে হাসিমুখে বলেছেন, বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, ছেলেবেলায় আমি স্প্যানিশ বলতে চাইতাম, কারণ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতাম একদিন বার্সার হয়ে খেলব।
গর্ডনের সেই ছেলেবেলার বিশ্বাসটাই এবার বাস্তবে রূপ নিলো। নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে বার্সেলোনায় পাড়ি জমালেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।
শুক্রবার ক্লাবের পক্ষ থেকে এই দলবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
চুক্তির আর্থিক বিষয়াদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, গর্ডনের জন্য বার্সেলোনার প্রাথমিক খরচ হচ্ছে ৮ কোটি ইউরো (৯ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার)।
যেভাবে কাটলো গর্ডনের ক্যারিয়ার
লিভারপুলে জন্ম নেওয়া গর্ডন মাত্র ছয় বছর বয়সে যোগ দেন লিভারপুলের একাডেমিতে। সেখানে পাঁচ বছর কাটানোর পর ২০১২ সালে নাম লেখান এভারটনের একাডেমিতে। ২০১৭ সালে এভারটনের হয়েই সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ২০২৩ সালে সাড়ে চার কোটি পাউন্ডের বিনিময়ে তাকে দলে ভেড়ায় নিউক্যাসল ইউনাইটেড।
নিউক্যাসলের হয়ে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমটি স্বপ্নের মতো কাটিয়েছেন গর্ডন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ১৭টি গোল, যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই ১২ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
তাকে দলে নেওয়ার পর বার্সেলোনার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, গত মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল এবং সবচেয়ে বেশি ড্রিবল করা ফুটবলার হিসেবে তিনি আমাদের ক্লাবে যোগ দিলেন। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই মুগ্ধ করেছেন গর্ডন।
বার্সার জন্য স্প্যানিশ শিক্ষা
চলতি মাসের শুরুতেই নিউক্যাসলের কোচ এডি হাউ আভাস দিয়েছিলেন গর্ডনকে ধরে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। তখন বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা লিভারপুলে যাওয়ার জোর গুঞ্জন থাকলেও, গর্ডনের মনে তো আগে থেকেই ছিল কাতালান ক্লাবটি। স্প্যানিশ শেখার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিউক্যাসলে আমাদের একজন স্প্যানিশ ফিজিও আছেন। তার সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলতাম এবং বলেছিলাম, ‘একদিন বার্সার হয়ে খেলবই খেলব, এজন্য স্প্যানিশ শিখতে চাই।’
স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বসিত গর্ডন বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব। ছেলেবেলায় ঠিক এমন স্বপ্নই দেখতাম। এখানে আসতে পারাটা সত্যিই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমি জানি এই জার্সির ওজন কত, তবে আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ও রোমাঞ্চিত।
বার্সেলোনার জার্সিতে মাঠে নামার আগে অবশ্য গর্ডনকে দেখা যাবে আসন্ন বিশ্বকাপে, যেখানে তিনি ইংল্যান্ড দলের হয়ে মাঠ মাতাবেন।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩০মে২৬/এসএ



