Connect with us
ফুটবল

আরেকটি বেদনাদায়ক বিশ্বকাপ বিদায়, ব্রাজিলের সামনে এখন কী?

TEam Brazil
কী অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের ভাগ্যে? ছবি- সংগৃহীত

আরেকটি বেদনাদায়ক পরাজয়, শূন্য হাতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে আরও একবার স্তব্ধ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল। এতে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন তো ভাঙলই, উল্টো সোনালী ট্রফির জন্য সেলেসাওদের অপেক্ষা বেড়ে দাঁড়াল অন্তত ২৮ বছর। সেলেসাওদের মাঠের ফুটবল ঐতিহ্যের এমন বিপর্যয়ের পর সামনে এখন বড় প্রশ্ন, কী অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের ভাগ্যে?

কোচ কার্লো আনচেলত্তির নতুন দর্শন কি পারবে ভাঙা দলটিকে টেনে তুলতে, নাকি ফুটবলের সম্রাটরা এখন শুধু গড়পড়তা দলে পরিণত হতে যাচ্ছে? নতুন ফুটবল বিশ্বে কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে টিম ব্রাজিল।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকে নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয় পায়নি ব্রাজিল। এই দীর্ঘ দুই দশকে নকআউট পর্বে তাদের একমাত্র বড় জয়টি ছিল ২০১৪ সালে, নিজেদের মাটিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।



ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে এই অচলাবস্থা কাটাতে সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে কার্লো আনচেলত্তির মতো একজন হাই-প্রোফাইল বিদেশি কোচকে নিয়োগ দেয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলানের মতো বড় ক্লাবে নকআউটের সাফল্যের ট্র্যাক রেকর্ড দেখে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে বাঁধা হয়।

TEam Brazil (1)

তবে বিশ্বমঞ্চে নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর প্রশ্ন উঠছে, আনচেলত্তি কি ব্রাজিলে থাকতে পারবেন?

ম্যাচের পর তিনি অবশ্য বলেছেন, আমরা একটা চক্রের শুরুতে আছি, এটাই শেষে নয়।

মাঠের খেলায় ব্রাজিলের দৈন্যদশা

নরওয়ের মতো দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের বল পজেশন ছিল মাত্র ৩৬ শতাংশ, যা সেলেসাওদের ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে বড্ড বেমানান। এক্সপেক্টেড গোল এর হিসেবে ব্রাজিল ২.৬১ এবং নরওয়ে ১.০৫-এ এগিয়ে থাকলেও, ব্রাজিলের এই পরিসংখ্যান মূলত দুটি পেনাল্টির কারণে বড় দেখাচ্ছে। যার একটি ব্রুনো গিমারায়েস মিস করেছেন এবং অন্যটি ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমার গোল করে কেবল সান্ত্বনাসূচক ব্যবধান কমিয়েছেন।

আর্লিং হালান্ডের কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকানোর অজুহাতে আনচেলত্তি দলকে হাই-প্রেস করতে পাঠাননি। ডিফেন্সে গ্যাব্রিয়েল ও মার্কুইনহোসের মতো তারকা থাকার পরও হালান্ডকে নিয়ে ব্রাজিলের এই অতি-সতর্কতা ফুটবল বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। ম্যাচের প্রথম গোলের সময় ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলকে ফাঁকি দিয়ে হালান্ড যেভাবে গোল করেন এবং দ্বিতীয় গোলের সময় ব্রাজিলের বক্সের ভেতর যেভাবে দুই টাচ করার সুযোগ পান, তা ব্রাজিলের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

প্লেয়ার্স কোচ বনাম বাস্তবতার কঠিন রূপ

ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের আগলে রেখে আনচেলত্তি বলেছেন, এই আসর তরুণদের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা।

কৌশলগত ভুল বা বদলি খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার দায় তিনি নেননি। তবে মিডফিল্ডার এডারসনকে যোগ করে ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেললে হয়তো নরওয়ের পজিশন নিয়ন্ত্রণ করা যেত। এছাড়া তরুণ এনড্রিককে নামানোর সিদ্ধান্ত কৌশলী হওয়ার চেয়ে আবেগী বেশি ছিল।

সবচেয়ে বড় অপ্রিয় সত্য হলো, ব্রাজিলের সেই চিরচেনা স্কোয়াড ডেপথ বা প্রতিভার গভীরতা এখন আর নেই।

রাইট-ব্যাকে ওয়েসলির চোটে ভরসা করতে হচ্ছে ৩৫ ছুঁইছুঁই দানিলোর ওপর।

রাফিনহার বিকল্প হিসেবে নামাতে হচ্ছে ১৯ বছরের তরুণ রায়ানকে।

লুকাস পাকেতা না থাকায় পুরো রণকৌশল ভেঙে মার্তিনেল্লিকে খেলাতে হচ্ছে।

নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে খেলেনি, অথচ তাদের দলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলা খেলোয়াড় ছিল ৮ জন, যা ব্রাজিলের চেয়েও একজন বেশি!

ব্রাজিল এখন আর প্রতিপক্ষের চেয়ে প্রতিভায় যোজন যোজন এগিয়ে থাকা কোনো দল নয়। আনচেলত্তি ভবিষ্যৎ নিয়ে যতই আশাবাদী হোন না কেন, এটি সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া নতুন ফুটবল বিশ্ব। আর এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের অপেক্ষা কেবল দীর্ঘই হচ্ছে।

ক্রিফোস্পোর্টস/৬জুলাই২৬/এসএ

Crifosports announcement

Focus

More in ফুটবল