Connect with us
ক্রিকেট

মুশফিককে দেখে উইকেটকিপার হওয়ার স্বপ্ন দেখা অমিত এখন টেস্ট দলে

টেস্ট দলে অমিত হাসান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অমিত হাসান। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে রাখা হয়েছে ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে। দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করার পর অবশেষে জাতীয় দলে ডাক পেলেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অমিত। সেখানে উঠে এসেছে তার ছোটবেলার স্বপ্ন, পরিবারের অবদান, ক্রিকেটে আসার গল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে অমিত বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোতে পেরে এখন ভীষণ ভালো লাগছে তার।



অমিত বলেন, ক্রিকেট খেলা শুরু করার সময় থেকেই দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা ছিল তার। জাতীয় দলের জার্সি হাতে পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও জানান তিনি।

পরিবারের অবদানের কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই ক্রিকেটার। তিনি জানান, তার ক্রিকেট জীবনের শুরু থেকেই পাশে ছিলেন বাবা-মা ও বড় ভাই। বিশেষ করে বড় ভাইয়ের কথাই আলাদা করে উল্লেখ করেন অমিত।

তার মতে, ছোটবেলায় বড় ভাইই প্রথম তাকে অনুশীলনে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরিবারের সমর্থন না থাকলে এতদূর আসা সম্ভব হতো না বলেও মনে করেন তিনি।

ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়ার পেছনেও আছে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের প্রভাব। ছোটবেলায় টেলিভিশনে মুশফিকের খেলা দেখেই উইকেটরক্ষক হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বলে জানান অমিত।

তিনি বলেন, মুশফিকুর রহিমকে দেখে উইকেটরক্ষণ ভালো লাগতে শুরু করে। এরপর থেকেই নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে এই জায়গায় নিয়ে আসেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে রান করে আসছেন অমিত হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ ও জাতীয় ক্রিকেট লিগে নিয়মিত ভালো খেলেছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৮২ ইনিংসে প্রায় ৫০ গড়ে করেছেন ৩ হাজার ৬৫০ রান। রয়েছে ১১টি শতক ও ১৭টি অর্ধশতক।

নিজের ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে প্রথম শ্রেণির অভিষেক ম্যাচের কথাই মনে করেন অমিত। সেই ম্যাচেই করেছিলেন ১২৪ রান। তার মতে, ওই ইনিংস তাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল।

অমিত বলেন, ক্রিকেট জীবনের টার্নিং পয়েন্ট বলতে তিনি নিজের অভিষেক ম্যাচকেই বুঝেন। কারণ প্রথম ম্যাচেই শতক করার পর থেকেই নিজের ওপর বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।

ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন এই তরুণ ক্রিকেটার। জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ পেলে দেশের জয়ে অবদান রাখাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন অমিত হাসান। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চান এই তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

ক্রিফোস্পোর্টস/৭মে২৬/টিএ

Crifosports announcement

Focus

More in ক্রিকেট