
দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে সুযোগ পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি আফিফ হোসেন ধ্রুব। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে তার ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সিরিজের আগে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছিলেন, আফিফ অভিজ্ঞ এবং ভালো ছন্দে আছেন। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটিং। অনেক ম্যাচেই পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলতে পারছে না দল। বিশেষ করে মাঝের ওভার গুলোতে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। এই জায়গায় আগে সুযোগ পেয়েছিলেন নুরুল হাসান ও শামীম পাটোয়ারী। কিন্তু তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। এরপর পাকিস্তান সিরিজে দলে ফেরানো হয় লিটন কুমার দাস ও আফিফ হোসেনকে। লিটনকে মিডল অর্ডারে খেলানোর পরিকল্পনাও করা হয়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে আফিফের ব্যাটিংয়ের সুযোগই হয়নি। শুরুর চার ব্যাটারই ম্যাচ শেষ করে দেন। দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। তখন ১৯.৩ ওভারে আফিফ ব্যাটিংয়ে নামেন। সে সময় জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৮০ রান। কিন্তু তিনি ১৫ বলে করেন মাত্র ১৪ রান। দুটি চার এলেও সেগুলো ছিল নিয়ন্ত্রণহীন শট। পুরো সময় জুড়েই বড় শট খেলার চেষ্টা খুব একটা দেখা যায়নি।
রোববারের তৃতীয় ম্যাচ ছিল সিরিজ নির্ধারণী। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার সুযোগ থাকলেও সেখানেও আফিফের ব্যাটে দেখা যায়নি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। ৪৬.৪ ওভারে রিশাদ হোসেন আউট হওয়ার পর তিনি ক্রিজে যান। তখনো ২০ বল বাকি ছিল এবং দলের হাতে ছিল উইকেট। কিন্তু বাকি ১২ বলের মধ্যে ৮টি খেলে তিনি করেন মাত্র ৫ রান। কোনো চার বা ছক্কা আসেনি তার ব্যাট থেকে। বেশিরভাগ শটই ছিল মাটিতে, ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়নি।
শেষ দিকে রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি অন্য ব্যাটাররাও। তবে তাদের ব্যাটিংয়ের ধরন আর আফিফের ব্যাটিংয়ের মধ্যে পার্থক্য ছিল স্পষ্ট।
আফিফকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশীয় প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতায় একটি সেঞ্চুরি করার পরই তাকে আবার জাতীয় দলে নেওয়া হয়। ওই প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচে তিনি করেন ১২৮ রান। একটি সেঞ্চুরি ছাড়া বাকি দুই ইনিংসে তার রান ছিল খুবই কম। এমনকি সেঞ্চুরির ইনিংসেও তিনি একাধিকবার জীবন পেয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও আফিফের ধারাবাহিকতা খুব একটা দেখা যায়নি। পাকিস্তান সিরিজের আগে তার সর্বশেষ অর্ধশতক এসেছিল প্রায় চার বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
এই অবস্থায় দলে অন্যদের সুযোগ না দেওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। আগের সিরিজে ভালো ব্যাটিং করা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন স্কোয়াডে থাকলেও কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। একইভাবে আগের সিরিজের শেষ ম্যাচে ৯১ রান করা সৌম্য সরকারও পুরো সিরিজে একাদশের বাইরে ছিলেন।
দেশীয় প্রতিযোগিতায় ভালো করা আরেক ব্যাটার আকবর আলীর নামও আলোচনায় ছিল। তিনি ওই আসরে ৮৭ বলে ১১১ রানের একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং মোট রানও ছিল আফিফের চেয়ে বেশি।
তবে আফিফের ব্যাটিং নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মতে, আফিফ দলের জন্য খেলতে চেয়েছেন এবং নিজের জন্য ব্যাটিং করেননি। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে আরও সুযোগ পেলে আফিফ ভালো করতে পারেন।
আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। সেই সিরিজে আফিফ আবার সুযোগ পাবেন কি না, তা এখন দেখার বিষয়। একই সময়ে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন আকবর আলীও। ফলে নির্বাচকদের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৬মার্চ২৬/টিএ



















