
দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বেশ আগ্রহ প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের। দেশের বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। মূলত জাইমা রহমানকে ক্রীড়াঙ্গনে কাজে লাগাতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তখন আমিনুল জানান স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি বা ক্রীড়া কূটনীততে কাজ করবেন জাইমা। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা।
গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে দেখা করেছেন জাইমা রহমান। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল থেকে শুরু করে জাতীয় নারী কাবাডি দল, সিনিয়র জাতীয় নারী হকি দল এবং অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ও পুরুষ হকি দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া ওয়ান রান হাতিরঝিল হাফ ম্যারাথনের অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জাইমা তার অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় লিখেছেন, ‘গত কয়েক দিন আমি আমাদের জাতির গর্ব— আমাদের ক্রীড়া তারকাদের নিয়ে উদযাপন করার সৌভাগ্য পেয়েছিলাম। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়াড় থেকে শুরু করে স্থানীয় তারকারা যারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করে দেয়, সবার মাঝে খেলাধুলার প্রতি যে ভালোবাসা এবং এটি কীভাবে মানুষকে একত্রিত করে, তা কাছ থেকে দেখাটা আমার জন্য ছিল সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া নারী ক্রিকেট দল কিংবা নারী কাবাডি ও হকি দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করে বেশ উচ্ছ্বসিত জাইমা রহমান। তিনি লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, ওয়ান রান হাতিরঝিল হাফ ম্যারাথনের অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীরা, জাতীয় নারী কাবাডি দল, সিনিয়র জাতীয় নারী হকি দল এবং জাপানে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে অংশ নিতে যাওয়া নারী ও পুরুষ হকি দলের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
ক’দিন আগেই এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে নারী কাবাডি দল। তাছাড়া সিনিয়র নারী হকি দলও প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের এই সাফল্যে গর্বিত জাইমা রহমান। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের নারী কাবাডি দলের সাম্প্রতিক সাফল্যে আমি অনেক গর্বিত। তারা এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। একই সঙ্গে আমাদের সিনিয়র নারী হকি দলও ইতিহাস গড়েছে। তারা প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।’
সকলের সঙ্গে দেখা করে সম্মানিত বোধ করছেন জাইমা রহমান। জাইমা বলেন, ‘এই দলগুলো এবং তাদের কোচিং স্টাফদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত ক্রীড়া আদর্শের উদাহরণ।’
জাইমা মনে করেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে নিজেদের মেলে ধরতে পারবেন। তাতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্কও তৈরি হবে। একইসঙ্গে দেশেও ভালো ক্রীড়াপরিবেশ চান।
তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের উচিত আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করা। এতে করে প্রতিটি ম্যাচের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, অভিজ্ঞতা ও উৎকর্ষ গড়ে ওঠবে। একইসঙ্গে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং ধারাবাহিক প্রতিযোগিতামূলক ঘরোয়া ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে আরও নতুন নতুন তরুণ ক্রীড়াতারকারা নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করতে পারবেন।’
ক্রিফোস্পোর্টস/২৪মে২৬/বিটি




















