
সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রমিজ রাজা। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ইনিংসকে ম্যাচের বড় পার্থক্য বলে মনে করছেন তিনি। নিজের ইউটিউব বিশ্লেষণে রমিজ বলেন, এই দুই ব্যাটারের জুটিই পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
রমিজের মতে, ৩৯ বছর বয়সেও মুশফিকুর রহিম অসাধারণ ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাটিং করেছেন। তিনি বলেন, মুশফিক টপ অর্ডার ও নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বল শরীরের কাছে আসতে দিয়ে শান্তভাবে খেলার কারণে পাকিস্তানের বোলাররা তাকে খুব বেশি সমস্যায় ফেলতে পারেনি।
পাকিস্তানের বোলিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রমিজ। তার ভাষায়, ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩২ কিলোমিটার গতির বোলিংয়ে মুশফিক স্বাভাবিকভাবেই খেলেছেন। শুরুতে বল কিছুটা নড়াচড়া করলেও সেটি কমে গেলে তিনি সহজেই রান তুলেছেন। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকার মানসিকতাই মুশফিককে আলাদা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর পাকিস্তান কিছুটা আশা দেখেছিল বলে জানান রমিজ। কারণ তখন আকাশ মেঘলা ছিল এবং বল সুইং করছিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। এরপর ক্রিজে এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন লিটন দাস।
লিটনের ব্যাটিং নিয়ে রমিজ বলেন, তাকে খেলতে দেখলে মনে হয় অন্যদের চেয়ে বেশি সময় পাচ্ছেন। খুব সহজভাবে শট খেলেন এবং দ্রুত রান তুলতে পারেন। মুশফিকের সঙ্গে তার জুটিই ম্যাচের গতি পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে নিয়ে গেছে বলেও মনে করেন তিনি।
পাকিস্তানের কৌশল নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন রমিজ। তিনি বলেন, লিটনকে শর্ট বলে চাপে ফেলতে চাইলেও যথেষ্ট গতির বোলার না থাকায় সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। তার মতে, বাড়তি গতির একজন বোলার থাকলে একই পরিকল্পনা আরও কার্যকর হতে পারত।
অধিনায়ক শান মাসুদ, টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়া পাকিস্তানের জন্য চিন্তার বিষয়। শুধু আলাদা কিছু ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক দল নির্বাচন, ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি।
তবে পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদের প্রশংসাও করেছেন রমিজ। তিনি বলেন, শেষ দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও খুররম দারুণ লড়াই করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজকে যেভাবে আউট করেছেন, সেটিকে বিশ্বমানের বল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯মে২৬/টিএ




















