
মাত্র কয়েক বছর আগেও ফুটবল ক্যারিয়ার প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল হাজেম মাস্তুরির। আর্থিক অনিশ্চয়তা, ক্যারিয়ারে স্থিরতা না থাকা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পেশাদার ফুটবল ছেড়ে দমকলকর্মী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সময় বদলেছে। সেই মাস্তুরিই এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার।
১৯৯৭ সালে তিউনিসিয়ায় জন্ম নেওয়া হাজেম মাস্তুরির ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে, তবে সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি খেলেছেন দেশের নিচু স্তরের বিভিন্ন দলে। ২০১৯ সালে তৃতীয় বিভাগের অপেশাদার ক্লাব দেগুচে খেলেন। এরপর দ্বিতীয় বিভাগের এলপিএস তোজেউরে যোগ দিলেও বড় কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি।
প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আর্থিকভাবে খুব বেশি লাভবান হতে পারেননি মাস্তুরি। ২০২১ সালে তিউনিসিয়ার শীর্ষ লিগের ক্লাব ইএস মেত্লাউইতে যোগ দিলেও সেখানে মূলত টিকে থাকার লড়াইটাই বেশি ছিল। নিয়মিত দল বদল, সীমিত আয় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।
এক পর্যায়ে ফুটবল ছেড়ে স্থায়ী জীবিকার কথা ভাবতে শুরু করেন তিনি। জীবনের নিরাপত্তার জন্য দমকলকর্মী হওয়ার পরিকল্পনা নেন। প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কারণ তখন ফুটবল থেকে বড় কিছু হওয়ার আশা অনেকটাই কমে গিয়েছিল।
তবে নিজের স্বপ্ন পুরোপুরি ছাড়েননি মাস্তুরি। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই তাকে আরেকবার চেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করে। ২০২৩ সালে তিনি ইরাকের ক্লাব আল-নাজাফে যোগ দেন। এই সিদ্ধান্তই তার ক্যারিয়ারের নতুন মোড় তৈরি করে।
এরপর ২০২৪ সালে তিউনিসিয়ার ইউএস মোনাস্তির ক্লাবে যোগ দিয়ে নিজের সেরাটা দেখান তিনি। সেই মৌসুমে ১৭ গোল করে আলোচনায় উঠে আসেন। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং আক্রমণভাগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজর কাড়ে।
ফল হিসেবে প্রথমবারের মতো তিউনিসিয়ার জাতীয় দলে সুযোগ পান মাস্তুরি। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজেকে প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেন।
২০২৫ সালে তার ক্যারিয়ারে আসে আরও বড় পরিবর্তন। রাশিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ডায়নামো মাখাচকালা তাকে দলে নেয়। ইউরোপীয় ফুটবলে সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ সংগ্রামের ফল আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের তিউনিসিয়া স্কোয়াডে মাস্তুরি অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪ গোল করা এই স্ট্রাইকার এখন দেশের আক্রমণভাগের বড় শক্তি।
হাজেম মাস্তুরির জীবন দেখায়, কঠিন সময় বা ব্যর্থতা সবকিছুর শেষ নয়। কখনও কখনও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেলে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। ফুটবল ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার দ্বারপ্রান্ত থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছে মাস্তুরি এখন তিউনিসিয়ার অনুপ্রেরণার নাম।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৭মে২৬/টিএ






















