
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে ফরমেটে এখন পর্যন্ত কোনো দল ৫০০ রানের কোটা ছুঁতে পারেনিও। তবে ঘরোয়া খেলায় ৫০০ এর বেশি রানের নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ভারতের বিজয় হাজরে ট্রফি একটি ম্যাচের কথা বলা যেতে পারে। ২০২৩ সালে অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৫৭৪ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করেছিল বিহার।
এবার বিহারকেও পেছনে ফেলেছে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া লিগের দল স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব। যদিও যদিও এই টুর্নামেন্টটির লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের অফিশিয়াল মর্যাদা নেই। তবুও রানের এই বিশাল পাহাড় ক্রিকেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলেছে।
জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া লিগের একটি ম্যাচে মিথেন লায়ন্সের মুখোমুখি হয়েছিল স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব। এরপরেই তান্ডব শুরু করে স্করপিয়ন্স এর ব্যাটাররা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তার সংগ্রহ করে ৮২২ রানের এক দানবীয় স্কোর। পাহাড়সম এই রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মিথেন লায়ন্সের ব্যাটাররা কোনো প্রকারের প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। তারা মাত্র ২৮ রানেই গুটিয়ে যায়। ফলে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব ৭৯৪ রানের এক ঐতিহাসিক ও রেকর্ড ব্যবধানে জয়লাভ করে।
স্করপিয়ন্সের এই বিশাল রানের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন দলের দুই ওপেনার তাকুন্ডা মাদেম্বো এবং উইনফেড মাতেন্ডে। শুরু থেকেই আগ্রাশী ভাবে খেলতে থাকেন তারা। তাকুন্ডা মাদেম্বো মাত্র ১৪৩ বলে ৩০২ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। যা সাজানো ছিল ৫০টি চার এবং ৭টি ছক্কায়। অন্যদিকে তাঁর ওপেনিং সঙ্গী উইনফেড মাতেন্ডেও কম যাননি, তিনি মাত্র ৭৫ বল খেলে ২৩টি চার ও ১৩টি ছক্কার সাহায্যে ২০৩ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। এছাড়া তিন নম্বরে খেলতে নেমে ভিনসেন্টে মোয়ো ৩৯ বলে ৭৮ রান করেন এবং মিডল অর্ডারে গ্যাব্রিয়েল জায়া মাত্র ৪৯ বলে ১১০ রানের একটি ঝড়ো শতরান করে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচের শুরুতে পিচের আচরণ দেখে মনে হয়েছিল এটি বোলারদের জন্য এক বধ্যভূমি এবং ব্যাটাররা সহজেই ইচ্ছামতো রান তুলতে পারবেন, যার প্রমাণ স্করপিয়ন্সের ব্যাটাররা হাতেনাতে দিয়েছেন। তবে খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্রপট পুরোপুরি বদলে যায় এবং সেই একই পিচ মিথেন লায়ন্সের ব্যাটারদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। স্করপিয়ন্সের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মিথেনের কোনো ব্যাটারই ক্রিজে টিকতে পারেননি এবং একের পর এক উইকেট হারিয়ে দলটির ইনিংস মাত্র ২৮ রানেই থমকে যায়।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৪মে২৬/এনডি




















