
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে আরও এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্টে হারিয়েছে টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে হ্যাটট্রিক জয়ও পেয়েছে তারা। সবশেষ তিন টেস্টেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংস শেষে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬৩ রান তুলেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।
গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছে বাংলাদেশ। তাতে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। তবে আজ দিনের প্রথম সেশনে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলেই ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। অল্পের জন্য দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মিস করেন শান্ত। ৮৭ রান করে আউট হন তিনি। সবমিলিয়ে পাকিস্তানের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন শান্ত। ছবি- এএফপি
মধ্যাহ্নভোজ বিরতিতে যাওয়ার আগে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। তবে প্রথম ওভারেই উউকেট তুলে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ৫ বলে ২ রান করে বিদায় নেন ইমাম উল হক। ১ উইকেটে ৬ রান নিয়ে বিরতিতে যায় পাকিস্তান। বিরতি থেকে ফিরে দুই অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল মিলে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন। এই জুটিতে দলীয় অর্ধশত রান পেরোয় পাকিস্তান।
তবে ধীরে ধীরে বিপজ্জনক হতে থাকা এই জুটি ভেঙে দেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৫৭ রানের মাথায় আজানকে (১৫) বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে পাঠান এই স্পিনার। এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ এসেও সুবিধা করতে পারেননি৷ নাহিদ রানার গতি ও সুইংয়ের কাছে পরাস্ত হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তার ব্যাটে আসে মাত্র ২ রান।

শুরুতেই ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ছবি- এএফপি
দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। এরপর ফজল ও সালমান আগা মিলে ম্যাচের হাল ধরেন। দারুণ এক জুটি গড়ে ৩ উইকেটে ১১৬ রানে দ্বিতীয় সেশন শেষ করেন তারা। শেষ সেশনে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৫২ রান এবং বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট।
তবে চা বিরতি থেকে ফিরেই ফজলকে ফিরিয়ে ৫১ রানের জুটি ভেঙে দেন তাইজুল। ১১৩ বলে ৬৬ রান করে বিদায় নেন দারুণ খেলতে থাকা এই তরুণ। এরপর তাসকিন এসে দুর্দান্ত এক সুইংয়ে অপর সেট ব্যাটার আগাকে ফেরান। ৩৯ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন এই অলরাউন্ডার।
দলীয় ১২১ রান ৫ উইকেট পতনের পর সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে বিপত্তি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তারা বেশিদূর এগোতে পারেননি। এরপর শুরু হয় রানার তাণ্ডব। ১৫২ রানের মাথায় শাকিলকে কট বিহাইন্ডের শিকার বানিয়ে ফেরান তিনি। পরের ওভারেই দুর্দান্ত এক ইনসুইং ডেলিভারিতে রিজওয়ানকে বোকা বানিয়ে স্টাম্প উড়িয়ে দেন রানা।

ফাইফার নেওয়ার পর নাহিদ রানার উদযাপন। ছবি- এএফপি
এরপর হাসান আলীর উইকেট তুলে নেন তাইজুল। শেষে নোমান আলী ও শাহিন শাহ আফ্রিদির উইকেট নিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন রানা। সেইসঙ্গে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ইনিংসে রানা ৯.৫ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে এবং মিরাজ একটি উইকেট নেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে মিরাজ ৫টি, তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে এবং রান একটি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৪১৩/১০ (১১৭.১ ওভার)
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ৩৮৬/১০ (১০০.৩ ওভার)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ২৪০/৯ ডিক্লে. (৭০.৩ ওভার)
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ১৬৩/১০ (৫২.৫ ওভার)
ফলাফল : বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী
ক্রিফোস্পোর্টস/১২মে২৬/বিটি



















