
নাজমুল হোসেন শান্তর সামনে ছিল বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়ার সুযোগ। প্রথম ইনিংসে শতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে শেষ পর্যন্ত ১৩ রানের আক্ষেপ নিয়েই থামতে হয়েছে তাকে। ৮৭ রান করে আউট হয়ে এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির বিরল কীর্তি গড়া হলো না শান্তর।
মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনে দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোর পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল স্বাগতিকরা। তখন লিড ছিল ১৭৯ রানের। শান্ত ছিলেন ৫৮ রানে অপরাজিত, সঙ্গে ছিলেন মুশফিকুর রহিম।
শেষ দিনে শান্ত শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন সেঞ্চুরির পথে। তবে নোমান আলীর ঘূর্ণিতে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বল মিস করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ১৫০ বল মোকাবিলা করে ৭টি চারে ৮৭ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১০১ রান। ফলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক টেস্টের দুই ইনিংসে তিনবার সেঞ্চুরি করার সুযোগ হাতছাড়া হলো তার।
শান্তর বিদায়ের আগে মুমিনুল হকও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৯১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। ১২০ বলে ৫৬ রান করে আউট হওয়ার আগে টানা পাঁচ ইনিংসে অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন মুমিনুল। একই সঙ্গে স্পর্শ করেন টেস্টে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকেও বড় ইনিংসের আশা ছিল। কিন্তু ২২ রান করে হাসান আলীর বলে ক্যাচ দেন তিনি। লিটন দাসও সুবিধা করতে পারেননি। ১১ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে আউট হন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো ছিল না বাংলাদেশের। ৫ রানে মাহমুদুল হাসান জয় এবং ১০ রানে সাদমান ইসলাম ফিরে যান। এরপর মুমিনুল ও শান্তর জুটি দলকে এগিয়ে নেয়। তাদের ব্যাটে বাংলাদেশ লিড আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
এর আগে টস হেরে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪১৩ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
ক্রিফোস্পোর্টস/১২মে২৬/টিএ




















