
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্টের চতুর্থ দিনে বৃষ্টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। লাঞ্চ বিরতির সময় আকাশে মেঘ থাকলেও খেলা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তবে বিরতির পর মাঠে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই বৃষ্টি ও আলোর স্বল্পতায় ড্রেসিংরুমেই আটকে থাকতে হয় দুই দলকে।
একপর্যায়ে টানা বৃষ্টিতে পুরো দ্বিতীয় সেশন পরিত্যক্ত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি ঘোষণা করা হয়। পরে ম্যাচ কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আবার খেলা শুরু হবে।
দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ভালো অবস্থানে থাকলেও দ্রুত দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
দিনের দ্বিতীয় বলেই চার মেরে শুরু করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জয়। আব্বাস আফ্রিদির বলে ব্যক্তিগত ৪ রানে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলানো যায়নি।
এরপর ইনিংসের ১১তম ওভারে ফিরে যান সাদমান ইসলামও। হাসান আলির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১০ রান করে বিদায় নেন তিনি। মাত্র ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। দুজন মিলে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যান।
তৃতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন অবিচ্ছিন্ন ৭০ রান। লাঞ্চ বিরতির আগে পাকিস্তান আর কোনো সাফল্য পায়নি।
বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯৩ রান। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার কারণে স্বাগতিকদের মোট লিড হয় ১২০ রান।
মুমিনুল হক ৮২ বলে ৩৭ রান এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৭ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
পাকিস্তানের হয়ে প্রথম ইনিংসে একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস ও হাসান আলি।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রানে অলআউট হয়। সফরকারীদের বড় সংগ্রহে যেতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এখন বৃষ্টি কাটিয়ে খেলা স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে লিড আরও বাড়িয়ে পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করানো। চতুর্থ দিনের বাকি সময় ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ক্রিফোস্পোর্টস/১১মে২৬/টিএ



















