
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার লড়াই এখন পৌঁছে গেছে চূড়ান্ত উত্তেজনায়। দুই শক্তিশালী দল পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ ঘিরে পুরো ফুটবল বিশ্বে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রথম লেগে দারুণ এক ম্যাচ উপহার দেয় দুই দল। সেই ম্যাচে পিএসজি ৫–৪ ব্যবধানে জয় পেলেও খেলার শেষ ভাগে ফিরে আসে বায়ার্ন, যা পুরো লড়াইকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
প্রথম লেগে পিএসজি এক সময় ৫–২ গোলে এগিয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ করবে তারা। কিন্তু শেষ দিকে তিন গোল করে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে বায়ার্ন। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি জার্মান ক্লাবটি, তবে তাদের লড়াই ফেরার সক্ষমতা স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই কারণে দ্বিতীয় লেগ নিয়ে এখন দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেই সমান প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ফিরতি লেগটি অনুষ্ঠিত হবে বায়ার্নের ঘরের মাঠে। নিজ মাঠে খেলার সুবিধা তাদের জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন অনেকেই। ম্যাচের আগে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি জানিয়েছেন, তারা এই ম্যাচটিকে বিশেষভাবে দেখছেন এবং ফাইনালে ওঠার জন্য পুরো দল প্রস্তুত।
তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে খুব কম মানুষই ভেবেছিল যে তারা এত দূর আসতে পারবে। কিন্তু দল কঠোর পরিশ্রম করে এই অবস্থানে এসেছে। এখন লক্ষ্য একটাই, নিজেদের মাঠে ভালো ফুটবল খেলে ফাইনালের জায়গা নিশ্চিত করা। তিনি আরও জানান, দল জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামবে এবং সমর্থকদের সামনে স্মরণীয় কিছু উপহার দিতে চায়।
বায়ার্ন এই মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও ভালো অবস্থানে আছে। লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার পর এখন তাদের সামনে ঘরোয়া কাপ জয়ের সুযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে ট্রেবল জয়ের সম্ভাবনা তাদের সামনে খোলা আছে। তাই ইউরোপের বড় মঞ্চে সাফল্য পেতে তারা কতটা মরিয়া, তা কোচের কথাতেই স্পষ্ট।
অন্যদিকে পিএসজি শিবিরেও আত্মবিশ্বাসের কোনো কমতি নেই। প্রথম লেগে জয় পাওয়ার পরও তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দলটির কোচ লুইস এনরিকে জানিয়েছেন, তারা প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে এবং এবারও ব্যতিক্রম হবে না।
তিনি বলেন, তাদের কোনো ফল রক্ষা করার মানসিকতা নেই। লক্ষ্য একটাই, ম্যাচ জেতা। অ্যাওয়ে ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করার রেকর্ড এই মৌসুমে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এনরিকে আরও বলেন, এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি দলই শক্তিশালী। তাই ফাইনালে পৌঁছাতে হলে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। অতীতের ফল নয়, বরং বর্তমান পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত মৌসুমেও এই মাঠে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল পিএসজি। সেই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে কোচ মনে করছেন, পুরোনো স্মৃতির ওপর নির্ভর না করে বর্তমান ম্যাচেই মনোযোগ দিতে হবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৬মে২৬/টিএ






















