
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন টানাপোড়েন চলছেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে।
নতুন এই কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। গতকাল তামিম ইকবাল এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে জানান, তারা দ্রুত নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ৩ মে বোর্ড সভা করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিয়ম অনুযায়ী ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হবে।
তবে এই ঘোষণার আগেই নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়। সাতজন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন, যেখানে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সব কার্যক্রম স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়। এতে করে বোর্ডের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। আগামী ৪ মে সোমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের সঙ্গে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন আগের পরিচালনা পর্ষদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুলবুলপন্থিরা বর্তমান অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনার পর দুই পক্ষের মধ্যে এই বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারণ, একদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে নতুন কমিটি গঠন হয়েছে, অন্যদিকে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন। আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের সঙ্গে আগের পরিচালনা পর্ষদের আলোচনা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের রিট এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা এই তিনটি দিকই এখন সমান্তরালে চলছে।
এখন সবার নজর সোমবারের বৈঠকের দিকে। সেই আলোচনার ফলাফল এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/১মে২৬/টিএ




















