
জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ঢাকা জেলাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা জেলা দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে কুমিল্লা জয় পায় ৩৯ রানে।
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টসে জিতে ঢাকা প্রথমে কুমিল্লাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। শুরু থেকেই ব্যাট হাতে নিয়ন্ত্রিত ইনিংস খেলে কুমিল্লা বড় সংগ্রহ গড়ে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ২৬৯ রান।
দলের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শাহ পরান সোহেল। তিনি ৭৬ বলে ৮৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও প্রয়োজনীয় আক্রমণ। অন্যদিকে ইয়াসিন আরাফাতও বড় অবদান রাখেন। তিনি ১০০ বলে ৮০ রান করেন। নিচের দিকে ইফরান তাকরি ৩১ বলে ৩৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যা দলের সংগ্রহকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
ঢাকার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেরাজ হোসেন রনি। তিনি একাই ৫টি উইকেট শিকার করেন। তার বোলিংয়ে মাঝের ওভারগুলোতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও কুমিল্লা বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা জেলা শুরুতে কিছুটা ভালোই খেলছিল। ওপেনিং ও টপ অর্ডার মিলিয়ে তারা ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করে। তবে মাঝপথে বৃষ্টির কারণে খেলার পরিস্থিতি বদলে যায়। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০.৩ ওভারে ১৯৭ রান।
চাপের মধ্যে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ৩৯ রানের ব্যবধানে জয় পায় কুমিল্লা।
ঢাকার হয়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৬২ বলে ৫৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। আহরার আমিন পিয়ান ২৩ বলে ১০ রান করেন। তবে বাকি ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশা অনুযায়ী অবদান রাখতে পারেননি।
বল হাতে কুমিল্লার পক্ষে সবচেয়ে সফল ছিলেন ইয়াসিন হোসাইন, যিনি ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া মোহাম্মদ সবুজ, মোহাম্মদ ওমর রাজা এবং ইয়াসির আরাফাত একটি করে উইকেট শিকার করেন।
ফাইনালে দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন শাহ পরান সোহেল। পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ঢাকার আহরার আমিন। তিনি টুর্নামেন্টে ২৬২ রান করার পাশাপাশি ৫টি উইকেট নেন।
সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ভালো পারফরম্যান্স করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় কুমিল্লা জেলা দল।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৭এপ্রিল২৬/টিএ




















