
চোটের কারণে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমান। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে দলে ফিরে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি গড়েছেন গুরুত্বপূর্ণ একটি রেকর্ড।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন মুস্তাফিজ। প্রথমে ফিরিয়ে দেন হেনরি নিকোলসকে। এরপর একে একে নিক কেলি, নাথান স্মিথ, জেডন লেনক্স ও উইলিয়াম ও’রুর্কের উইকেট নেন তিনি। শেষ ব্যাটার ও’রুর্কেকে বোল্ড করার মাধ্যমে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন।
এই পাঁচ উইকেটের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে ইনিংসে ছয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতে পৌঁছান মুস্তাফিজ। এর ফলে তিনি জায়গা করে নেন পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম ও নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টের পাশে। এই তিনজন এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক, যিনি নয়বার এই কীর্তি গড়েছেন।
ম্যাচে ৯ ওভার বল করে ৪৩ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তার এই পারফরম্যান্সে বড় অবদান রেখেছেন ফিল্ডাররাও। নাথান স্মিথের ক্যাচটি শর্ট মিড উইকেটে দারুণ দক্ষতায় ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জেডন লেনক্সের জোরে মারা শট মিড উইকেটে তালুবন্দী করেন তাওহীদ হৃদয়। এছাড়া শেষ দিকে লং অন থেকে দৌড়ে এসে ডিন ফক্সক্রফটের ক্যাচ নেন সাইফ হাসান, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পুরো ইনিংসে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বল করে ব্যাটারদের চাপে রাখেন মুস্তাফিজ। ধীরগতির বল, সোজা লেন্থ আর নিখুঁত ইয়র্কার মিলিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে সহজে খেলতে দেননি। তার এই বোলিংয়ে ২১০ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ড, আর বাংলাদেশ পায় ৫৫ রানের জয়।
ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম লাথাম মুস্তাফিজের প্রশংসা করে বলেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ ও মানসম্পন্ন বোলার, যিনি যে কোনো সময় ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন।
পরিসংখ্যান বলছে, মিচেল স্টার্ক ১৩০ ইনিংসে নয়বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ট্রেন্ট বোল্ট ১১৩ ইনিংসে ছয়বার এবং মুস্তাফিজ ১১৮ ইনিংসে ছয়বার এই কীর্তি গড়েছেন। ওয়াসিম আকরাম অবশ্য অনেক বেশি ম্যাচ খেলে একই সংখ্যক পাঁচ উইকেট পেয়েছেন।
মুস্তাফিজ তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই ধরনের পারফরম্যান্স করে আসছেন। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজেই দুই ম্যাচে পাঁচ ও ছয় উইকেট নেন তিনি। একই বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন। পরে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও পাঁচ উইকেট নেন। দীর্ঘ সময় পর এবার আবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন তিনি।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৪এপ্রিল২৬/টিএ




















