
দীর্ঘ ৪২ বছর পর আবারও ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানাল নটিংহ্যাম ফরেস্ট। ঘরের মাঠে পোর্তোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ডের এই ক্লাব। শেষবার তারা এই পর্যায়ে খেলেছিল ১৯৮৪ সালে।
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করেছিল। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল দুই দলের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে দল জিতবে, তারাই শেষ চারে উঠবে এমন সমীকরণ নিয়েই মাঠে নামে দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অষ্টম মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় পোর্তো। নটিংহ্যাম ফরেস্টের স্ট্রাইকার ক্রিস উডকে কঠিন ফাউল করার কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের এক ডিফেন্ডারকে। ফলে শুরুতেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় পোর্তো, যা ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলে।
একজন কম নিয়ে খেলতে থাকা পোর্তোর ওপর চাপ বাড়াতে থাকে স্বাগতিকরা। এর ফলও পায় খুব দ্রুত। ম্যাচের ১২ মিনিটে নেকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল থেকে দারুণ শটে গোল করেন মর্গান গিবস হোয়াইট। শটটি প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়, ফলে গোলরক্ষকের পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
গোল করার পর গিবস হোয়াইট আবেগঘন মুহূর্তে নিজের সতীর্থ এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে স্মরণ করেন। পারিবারিক কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি অ্যান্ডারসন, তাই তার উদ্দেশে এই গোল উৎসর্গ করেন তিনি।
গোলের পর পুরো ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে নটিংহ্যাম ফরেস্ট। পোর্তো চেষ্টা করলেও একজন কম থাকায় তেমনভাবে আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। অন্যদিকে স্বাগতিকরা সুযোগ পেলেও আর কোনো গোল করতে পারেনি। তবে ১-০ ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট ছিল তাদের জন্য।
এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বড় সাফল্য পেল নটিংহ্যাম ফরেস্ট। ক্লাবটির সমর্থকদের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত, কারণ অনেক বছর পর আবারও তারা দলকে এই পর্যায়ে দেখতে পাচ্ছেন।
তবে এই আনন্দের মাঝেও কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে দলের জন্য। ম্যাচে ফাউলের শিকার হয়ে শুরুতেই মাঠ ছাড়তে হয় ক্রিস উডকে। এছাড়া ম্যাচের শেষদিকে আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চোট পান। সামনে ঘরোয়া লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় এই চোটগুলো দলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আগামী মাসের প্রথম দিনে সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নটিংহ্যাম ফরেস্টের প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলা। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ব্রাগা ও ফ্রেইবার্গ।
সবকিছু মিলিয়ে, অনেক দিন পর আবারও ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পেয়েছে নটিংহ্যাম ফরেস্ট। এখন তাদের লক্ষ্য থাকবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৭এপ্রিল২৬/টিএ























