
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন কমিটি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এমন উদ্যোগ নেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রিকেটারদের মধ্যে। অনেকদিন ধরেই এই দাবি ছিল, অবশেষে সেটি বাস্তবায়নের পথে।
সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এই কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৭ এপ্রিল প্রথম সভা করে। পরদিন ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় সভায় ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলোয়াড়দের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান সভাপতি তামিম ইকবাল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ‘এ’ স্তরের খেলোয়াড়দের মাসিক বেতন ৩৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা প্রায় দ্বিগুণ। ‘বি’ স্তরের বেতন ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার এবং ‘সি’ স্তরের বেতন ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্তরের খেলোয়াড়দের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু বেতনই নয়, ম্যাচ ফিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে প্রথম শ্রেণির একটি ম্যাচ খেলে ক্রিকেটাররা পেতেন ৭৫ হাজার টাকা। এখন সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময়ের ম্যাচ খেলায় আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ ফিও বাড়ানো হয়েছে। আগে একদিনের ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও এখন টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার এবং একদিনের ম্যাচে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের ম্যাচে তারা পাবেন ২০ হাজার টাকা করে।
এই পরিবর্তনের ফলে নারী ক্রিকেটাররাও আগের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এতে করে তাদের অংশগ্রহণ এবং পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পারিশ্রমিক বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের অনেক ক্রিকেটার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা নিয়মিত খেলছেন, তাদের জন্য এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল।
সব মিলিয়ে নতুন কমিটির এই সিদ্ধান্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়লে তারা আরও মনোযোগ দিয়ে খেলতে পারবেন, যা শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৯এপ্রিল২৬/টিএ




















