
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশ না নেওয়া নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। কেন বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই প্রশ্নের জবাবে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, এটি ছিল একটি বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি অবহেলা ও অসম্মানের জবাব দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার মতে, দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করা হলে বাংলাদেশও যে নিজের অবস্থান জানাতে পারে, সেটি দেখানো দরকার ছিল।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর বাংলাদেশ তাদের ম্যাচ অন্য দেশে আয়োজনের অনুরোধ জানালেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
জানুয়ারিতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল। খেলোয়াড়রা খেলতে আগ্রহ দেখালেও তারা শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাই জানিয়েছিলেন।
বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় দেশের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি এবং দেশের মাটিতে এখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে বড় পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সম্প্রতি আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির মূল কাজ হলো তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দাবি করেছেন, নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া ঠিক হয়নি। তার মতে, এতে বোর্ডের স্বতন্ত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে না খেলা এবং বোর্ডে পরিবর্তন দুই বিষয়ই এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সামনে নতুন নির্বাচন এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ক্রিফোস্পোর্টস/৮এপ্রিল২৬/টিএ




















