
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আজ দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনও, বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
গত কিছু সময় ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্রিকেট। ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। একইভাবে এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গত জানুয়ারিতে। মুস্তাফিজুর রহমানকে একটি ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘিরে দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। এরপর জাতীয় দলের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে তখনকার সরকার বাংলাদেশকে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিতে নির্দেশ দেয়। ফলে বড় একটি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যেতে হয় দলকে।
এই সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যদিও বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না তাদের।
সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে বিসিবি। তারা চাইছে, ক্রিকেট সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আলোচনায় আসুক।
জানা গেছে, বিসিবি ইতিমধ্যে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি পাঠিয়েছে। আসন্ন সফর এবং আগামী এশিয়া কাপ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় তারা। এখন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বিসিবির কর্মকর্তারা মনে করছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত হলে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি সিরিজ ও কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলও একই পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে। নারী ও পুরুষদের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতাগুলো সামনে রেখে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও চায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক।
সব মিলিয়ে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর শুধু রাজনৈতিক নয়, ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক কতটা এগোয় এবং তার প্রভাব মাঠের খেলায় কত দ্রুত দেখা যায়।
ক্রিফোস্পোর্টস/৭এপ্রিল২৬/টিএ




















