
শেষ পর্যন্ত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করায় দলটির না থাকার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ভারতের গোয়ার ফাতোরদায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ আসর। শুরুতে সাতটি দেশকে নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল দক্ষিণ এশীয় ফুটবল সংস্থা। তবে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও পাকিস্তান তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করায় শেষ পর্যন্ত ছয় দল নিয়েই আয়োজন করতে হচ্ছে।
ভারতের একটি গণমাধ্যমকে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানের অংশগ্রহণের সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও তারা যে আসছে না, সেটি প্রায় নিশ্চিত। তার মতে, পাকিস্তান সরকার দলটিকে ভারতে পাঠাতে আগ্রহী নয় বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের ক্রীড়া সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক না থাকায় প্রায়ই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে জটিলতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার ব্যবস্থা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন খেলায় নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানের অংশ না নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তবে মাঝেমধ্যে ইতিবাচক উদাহরণও আছে। ২০২৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পাকিস্তানের পুরুষ ফুটবল দল ভারতে গিয়েছিল। সেটি ছিল কয়েক বছর পর তাদের ভারতে ফিরে খেলা।
পাকিস্তান না থাকায় এবারের নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে ছয়টি দল ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দল কমে গেলেও নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। নতুন সূচি অনুযায়ী ম্যাচগুলো সাজানো হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব নতুন নয়। এবারের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের অনুপস্থিতি সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এলো। এতে প্রতিযোগিতার উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বাকি দলগুলো নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৬এপ্রিল২৬/টিএ





















