
ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল সান্তোস। হলুদ কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ায় ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম ভরসা নেইমার। রেমোর বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ভিলা বেলমিরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সান্তোস। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন তারা। এই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নেইমারই। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে তার অসাধারণ দক্ষতায় তৈরি হয় প্রথম গোলের সুযোগ। বাম দিক দিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে নিখুঁতভাবে থাসিয়ানোর পায়ে বল তুলে দেন তিনি। থাসিয়ানোও সুযোগ হাতছাড়া করেননি, জালে বল পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সান্তোস।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় খেলে স্বাগতিকরা। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধীরে ধীরে আক্রমণ সাজাতে থাকে তারা। ৮১ মিনিটে আবারও গোলের পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন নেইমার। এসকোবারের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণ তৈরি হয়। নেইমার বল এগিয়ে দিয়ে আবার তা ফেরত নেন, এরপর এসকোবারকে দেন সুযোগ। তার ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় মোইসেস সহজেই বল জালে পাঠান। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সান্তোস।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে ঘটে বিতর্কিত ঘটনা। ৮৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের কড়া ফাউলের শিকার হন নেইমার। মাটিতে পড়ে গিয়ে ব্যথায় কুঁকড়ে যান তিনি। এরপর রেফারির কাছে গিয়ে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। কিন্তু সেই প্রতিবাদের জেরেই উল্টো নেইমারকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এই কার্ডই তার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ আগের কার্ডের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি নিষিদ্ধ হয়ে পড়েন পরের ম্যাচের জন্য।
ম্যাচ শেষে নিজের অসন্তোষ লুকাননি নেইমার। তিনি বলেন, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাকে অকারণে ফাউল করা হয়েছে, অথচ প্রতিবাদ করতেই তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, রেফারি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলেন না এবং তাদের প্রতি সম্মান দেখান না।
সান্তোসের জন্য সমস্যা এখানেই শেষ নয়। কোচ কুকা এই ম্যাচে পাবেন না আরেক ফরোয়ার্ড রনিকেও, তিনিও কার্ডের কারণে বাইরে। এছাড়া ইনজুরির কারণে আগে থেকেই দলে নেই ভিনিসিউস লিরা, মাইকে এবং গ্যাব্রিয়েল মেনিনো। বিশেষ করে লিরার চোট গুরুতর হওয়ায় এই মৌসুমে তার ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ইতিবাচক খবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল বারবোসা, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে দলকে।
রেমোর বিপক্ষে জয়ের ফলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগের ১২তম স্থানে উঠে এসেছে সান্তোস। টানা দুই ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়াও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
আগামী রবিবার রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ফ্ল্যামেঙ্গোর মুখোমুখি হবে সান্তোস। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নেইমারকে ছাড়া দল কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেটিই এখন সবার নজরে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩এপ্রিল২৬/টিএ





















