
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। যেসব দেশকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে, সেসব দেশে খেলাধুলার জন্য কোনো দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশে ইরানের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, সেসব দেশে আপাতত কোনো জাতীয় দল বা ক্লাব দল অংশ নেবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার পর প্রায় এক মাস কেটে গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই ইরান ক্রীড়াক্ষেত্রে এই কড়া পদক্ষেপ নিল।
এশিয়ার ক্লাব পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ইরানের ক্লাব ট্রাক্টর এফসির সৌদি আরবে গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি দলের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করেই ইরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে। তারা জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে এসব ম্যাচ অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশে আয়োজন করতে হবে।
এ কারণে ইরানের ফুটবল কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু ক্লাব পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, জাতীয় দলও এর আওতায় পড়বে। সামনে বড় আন্তর্জাতিক আসর থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে দল পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, নারী ফুটবল নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে ইরান আলোচনায় এসেছে। নারী এশিয়া কাপে অংশ নেওয়ার সময় জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনায় ইরানের নারী দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও একজন কর্মকর্তা অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাদের মধ্যে পাঁচজন দেশে ফিরে গেলেও দুজন এখনো অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তবতা মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ইরান। দেশের এই নতুন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৭মার্চ২৬/টিএ




















