
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের সব ম্যাচই পড়েছে মার্কিন ভেন্যুতে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। সূচি পরিবর্তনের দাবি তুললেও তা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থা। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তুরস্কে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান দল।
বুধবার দক্ষিণ তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুশীলনে নামে ইরান। শহরের বেলেক এলাকায় দলটির অনুশীলন হয়েছে সীমিত পরিসরে, যেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে আপাতত কোনো বক্তব্য না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচের দিকেই এখন পুরো মনোযোগ।
আগামী শুক্রবার নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং পরের মঙ্গলবার কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইরান। শুরুতে এই ম্যাচ দুটি জর্ডানে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে তা তুরস্কে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনুশীলনে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত দেখা গেছে। দলে আছেন আলোচিত ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। ক্লাব ফুটবলে ইসরায়েলি এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদলের ঘটনায় সম্প্রতি তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে দলে নেই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সরদার আজমুন। তাকে বাদ দেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে ছবি প্রকাশের পর তার প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে সরকারের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে অন্য দেশে নেওয়ার দাবি জানায়। ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না থাকায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান না। তবে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে সূচি পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
সবকিছু মিলিয়ে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও মাঠের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে থাকতে চায় না ইরান। এর আগে যদিও তারা দাবি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচগুলো যেন মেক্সিকোর মাটিতে আয়োজন করা হয়। কিন্তু ফিফা সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। এখন শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেয় কি না সেটাই আলোচনার বিষয়।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৬মার্চ২৬/টিএ



















