
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন ক্রীড়াঙ্গনেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা অনিশ্চয়তা। তারা বিশ্বকাপে খেলবে কি না, খেললে কোথায় খেলবে এসব প্রশ্নের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তারা কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলবে না। তবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই তাদের। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইরান দল।
এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি চার দেশের আমন্ত্রণমূলক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে তারা। আগামী ২৭ মার্চ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং চার দিন পর কোস্টা রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান। এই প্রতিযোগিতা আগে জর্ডানে হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তা তুরস্কে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ক্যাম্প করে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
এরই মধ্যে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় সাম্প্রতিক সংঘাতের পর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হন। এরপর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান।
এই পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একদিকে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী শুরুতে অংশ না নেওয়ার কথা বললেও পরে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে ইরান দলকে স্বাগত জানালেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এই মন্তব্যের পরই ইরান স্পষ্ট করে দেয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না। তবে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে না।
জটিলতা কমাতে সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো ইরানের সব ম্যাচ নিজেদের দেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনতে চায় না বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তবে এসবের মধ্যেও নিজেদের প্রস্তুতি থামায়নি ইরান। বিশ্বকাপ খেলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে থাকছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯মার্চ২৬/টিএ
























